১৮/২৬৩. অধ্যায়ঃ
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
মহান আল্লাহ বলেন,﴿ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ ﴾ [الحج : ٣٠]অর্থাৎ তোমরা মিথ্যা কথন থেকে দূরে থাক। (সূরা হজ্জ ৩০ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴿وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ﴾ [الاسراء: ٣٦]অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হয়ো না। (সূরা ইসরা ৩৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ﴾ [ق: ١٨]অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করুক না কেন তা লিপিবদ্ধ করার জন্য তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে। [ক্বাফ ১৮ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿ إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ﴾ [الفجر: ١٤]অর্থাৎ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। (সূরা ফজর ১৪ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ﴾ [الفرقان: ٧٢]অর্থাৎ [তারাই পরম দয়াময়ের দাস] যারা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় না। (সূরা ফুরক্বান ৭২ আয়াত)
মিথ্যা সাক্ষ্য: অতি মহাপাপ থেকে কঠিন সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৫৫৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৫৫৮
وَعَنْ أَبي بَكْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: أَلاَ أُنَبِّئُكُمْ بِأَكْبَرِ الكَبَائِرِ ؟» قُلْنَا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ: «الإِشْرَاكُ بِاللهِ، وعُقُوقُ الوَالِدَيْنِ» وَكَانَ مُتَّكِئاً فَجَلَسَ، فَقَالَ: «أَلاَ وَقَولُ الزُّورِ» فَمَا زَالَ يُكَرِّرُهَا حَتَّى قُلنَا : لَيْتَهُ سَكَتَ. متفق عَلَيْهِ
আবূ বাক্রাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ’’তোমাদেরকে কি অতি মহাপাপের কথা বলে দেব না?’’ আমরা বললাম, ’অবশ্যই বলুন হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ’’আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা এবং মাতা-পিতার অবাধ্যাচরণ করা।’’ তারপর তিনি হেলান ছেড়ে উঠে বসলেন এবং বললেন, ’’শোন! আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।’’ শেষোক্ত কথাটি তিনি বারবার বলতে থাকলেন। এমনকি অনুরূপ বলাতে আমরা [মনে মনে] বললাম, ’যদি তিনি চুপ হতেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ২৬৪৫, ৫৯৭৬, ৬২৭৩, ৬৯১৯, মুসলিম ৮৭, তিরমিযী ১৯০১, ২৩০১, ৩০১৯, আহমাদ ১৯৮৭২, ১৯৮৮১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার ভয়াবহতা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি অতি মহাপাপের কথা জানিয়ে দেবেন? তাঁরা বললেন, অবশ্যই। তিনি বললেন, আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা এবং মাতা-পিতার অবাধ্যাচরণ করা। এরপর তিনি হেলান ছেড়ে উঠে বসলেন এবং বললেন, শোন! আর মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। তিনি কথাটি বারবার বলতে থাকলেন। এতে বোঝা যায়, মিথ্যা সাক্ষ্য শুধু সাধারণ মিথ্যা নয়; এর মাধ্যমে মানুষের অধিকার নষ্ট হতে পারে, বিচার ভুল পথে যেতে পারে এবং বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই সাক্ষ্য, রিপোর্ট, অভিযোগ বা কোনো দাবিতে সত্যকে বদলে দেওয়া থেকে খুব সাবধান থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা সাক্ষ্য অতি মহাপাপের মধ্যে গণ্য হয়েছে।
- সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সত্যকে বদলে দেওয়া বড় অন্যায়।
- মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে মানুষের অধিকার নষ্ট হতে পারে।
- গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলার আগে আল্লাহর ভয় রাখা দরকার।
