১৮/২৫৯. অধ্যায়ঃ

দু’মুখো-পনার নিন্দাবাদ

মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلَا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لَا يَرْضَىٰ مِنَ الْقَوْلِ ۚ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطًا﴾ [النساء : ١٠٨]অর্থাৎ এরা মানুষকে লজ্জা করে [মানুষের দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করে], কিন্তু আল্লাহকে লজ্জা করে না [তাঁর দৃষ্টি থেকে গোপনীয়তা অবলম্বন করতে পারে না] অথচ তিনি তাদের সঙ্গে থাকেন, যখন রাত্রে তারা তাঁর [আল্লাহর] অ-পছন্দনীয় কথা নিয়ে পরামর্শ করে। আর তারা যা করে তা সর্বতোভাবে আল্লাহর জ্ঞানায়ত্তে।(সূরা নিসা ১০৮ আয়াত)

শাসকের সামনে দ্বিমুখী কথা: মুনাফিকী আচরণ থেকে সতর্কতা

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১৫৪৯

وَعَنْ مُحَمَّدِ بنِ زَيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : أَنَّ نَاساً قَالُوا لِجَدِّهِ عَبدِ اللهِ بنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : إنَّا نَدْخُلُ عَلَى سَلاَطِيننَا فَنَقُولُ لَهُمْ بِخِلاَفِ مَا نَتَكَلَّمُ إِذَا خَرَجْنَا مِنْ عِنْدِهِمْ . قَالَ: كُنَّا نَعُدُّ هَذَا نِفَاقاً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم . رواه البخاري

মুহাম্মাদ ইবনে যায়েদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

কতিপয় লোক তাঁর দাদা আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)-এর নিকট নিবেদন করল যে, ’আমরা আমাদের শাসকদের নিকট যাই এবং তাদেরকে ঐ সব কথা বলি, যার বিপরীত বলি তাদের নিকট থেকে বাইরে আসার পর। [সে সম্বন্ধে আপনার অভিমত কি?]’ তিনি উত্তর দিলেন, ’’রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় এরূপ আচরণকে আমরা ’মুনাফিক্বী’ আচরণ বলে গণ্য করতাম।’’(বুখারী)[১]

সহীহুল বুখারী ৭১৭৮, ইবনু মাজাহ ৩৯৭৫, আহমাদ ৫৭৯৫

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১৫৪৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দ্বিমুখী কথা বলা। কিছু লোক আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ)-কে বলল, তারা শাসকদের কাছে গিয়ে এক ধরনের কথা বলে, আর বাইরে এসে তার বিপরীত কথা বলে। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে এমন আচরণকে তারা মুনাফিকী আচরণ হিসেবে গণ্য করতেন। এখানে শিক্ষা খুব সরাসরি। ক্ষমতাবান ব্যক্তির সামনে নিজের কথা বদলে ফেলা, স্বার্থের জন্য এক কথা বলা আর পরে অন্য কথা বলা—এগুলো সত্যবাদী চরিত্রের সঙ্গে যায় না। হাদিসটি আমাদের মুখের সততা, সাহস এবং ভেতর-বাহির এক রাখার শিক্ষা দেয়। প্রয়োজন হলে নীরব থাকা যায়, কিন্তু মিথ্যা প্রশংসা বা বিপরীত কথা বলা থেকে বাঁচা দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ক্ষমতাবান ব্যক্তির সামনে মিথ্যা কথা বলা নিন্দনীয়।
  • এক জায়গায় এক কথা, অন্য জায়গায় বিপরীত কথা বলা মুনাফিকী আচরণের মতো।
  • সত্য বলা সম্ভব না হলে অপ্রয়োজনীয় কথা এড়িয়ে চলা ভালো।
  • চরিত্রে ভেতর-বাহির এক রাখা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন