১৮/২৫৪. অধ্যায়ঃ

গীবত (পরনিন্দা) নিষিদ্ধ এবং বাক্ সংযমের নির্দেশ ও গুরুত্ব

মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿ وَلَا تَجَسَّسُوا وَلَا يَغْتَبْ بَعْضُكُمْ بَعْضًا ۚ أَيُحِبُّ أَحَدُكُمْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ أَخِيهِ مَيْتًا فَكَرِهْتُمُوهُ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَحِيمٌ ﴾ (الحجرات: ١٢অর্থাৎ তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা (গীবত) করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করতে চাইবে? বস্তুতঃ তোমরা তো এটাকে ঘৃণাই কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আল্লাহ তাওবা গ্রহণকারী, পরম দয়ালু।(সূরা হুজুরাত ১২ আয়াত)তিনি বলেছেন,﴿وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَٰئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا﴾ (الاسراء: ٣٦অর্থাৎ যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই সেই বিষয়ে অনুমান দ্বারা পরিচালিত হইয়ো না। নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হবে।(সূরা বনী ইসরাইল ৩৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿ مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ إِلَّا لَدَيْهِ رَقِيبٌ عَتِيدٌ﴾(ق: ١٨অর্থাৎ মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে (তা লিপিবদ্ধ করার জন্য) তৎপর প্রহরী তার নিকটেই রয়েছে।(সূরা ক্বাফ ১৮ আয়াত)জেনে রাখুন যে, যে কথায় উপকার আছে বলে স্পষ্ট হয়, সে কথা ছাড়া অন্য সব (অসঙ্গত) কথা হতে নিজ জিহ্বাকে সংযত রাখা প্রত্যেক ভারপ্রাপ্ত মুসলিম ব্যক্তির উচিত। যেখানে কথা বলা ও চুপ থাকা দুটোই সমান, সেখানে চুপ থাকাটাই সুন্নত। কেননা, বৈধ কথাবার্তাও অনেক সময় হারাম অথবা মাকরূহ পর্যায়ে পৌঁছে দেয়। অধিকাংশ এরূপই ঘটে থাকে। আর (বিপদ ও পাপ থেকে) নিরাপত্তার সমতুল্য কোন বস্তু নেই।

জিভ সোজা থাকলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গও সোজা থাকে: জিহ্বা হেফাজতের শিক্ষা

রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১১/১৫২৯

وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي رضي الله عنه، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا أَصْبَحَ ابْنُ آدَمَ، فَإِنَّ الأَعْضَاءَ كُلَّهَا تَكْفُرُ اللِّسانَ، تَقُولُ: اتَّقِ اللهَ فِينَا، فَإِنَّما نَحنُ بِكَ ؛ فَإِنِ اسْتَقَمْتَ اسْتَقَمْنَا، وَإِنِ اعْوَجَجْتَ اعْوَجَجْنَا» . رواه الترمذي

আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন, “আদম সন্তান যখন সকালে উপনীত হয়, তখন তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিভকে অত্যন্ত বিনীতভাবে নিবেদন করে যে, ’তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কারণ, আমাদের ব্যাপারসমূহ তোমার সাথেই সম্পৃক্ত। যদি তুমি সোজা সরল থাক, তাহলে আমরাও সোজা-সরল থাকব। আর যদি তুমি বক্রতা অবলম্বন কর, তাহলে আমরাও বেঁকে বসব।” (তিরমিযী) [১]

তিরমিযী ২৪০৭, আহমাদ ১১৪৯৮

রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১১/১৫২৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم একটি গভীর ছবি তুলে ধরেছেন। সকালে আদম সন্তান উঠলে তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিভকে বলে, তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ আমাদের বিষয় তোমার সঙ্গে জড়িত। তুমি সোজা থাকলে আমরাও সোজা থাকব, আর তুমি বেঁকে গেলে আমরাও বেঁকে যাব। এর মানে, মানুষের কথা তার কাজের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। মুখ দিয়ে মিথ্যা, গীবত, অপবাদ বা ঝগড়া শুরু হলে অনেক সময় হাত, পা ও আচরণও ভুল পথে যায়। আবার সত্য কথা, নরম কথা ও আল্লাহভীতি মানুষকে সোজা পথে রাখতে সাহায্য করে। তাই জিহ্বা হেফাজত শুধু মুখের বিষয় নয়; এটি পুরো জীবনকে শৃঙ্খলার মধ্যে রাখার একটি দরজা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • জিভের সঠিকতা মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলে।
  • আল্লাহভীতি নিয়ে কথা বলা উচিত।
  • মুখের ভুল অনেক সময় কাজের ভুলের পথ খুলে দেয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন