১৭/২৫০. অধ্যায়ঃ
দো‘আর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কতিপয় দো‘আর নমুনা
আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ ٦٠ ﴾ (غافر: ٦٠“তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমাকে ডাক আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।” (সূরা গাফের ৬০ আয়াত)তিনি বলেন,﴿ ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ ٥٥ ﴾ (الاعراف: ٥٤“তোমরা কাকুতি-মিনতি সহকারে ও সংগোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাক, নিশ্চয় তিনি সীমালংঘন কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সূরা আ’রাফ ৫৫ অয়াত)তিনি আরও বলেন,وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ (البقرة: ١٨٦“আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।” (সূরা বাক্বারাহ১৮৬ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴿ أَمَّنْ يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ﴾ [النمل: ٦٢]“অথবা (উপাস্য) তিনি, যিনি আর্তের আহবানে সাড়া দেন যখন সে তাঁকে ডাকে এবং বিপদ-আপদ দূরীভূত করেন।” (সূরা নামল ৬২ আয়াত)
ইন্দ্রিয়ের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া
রিয়াদুস সালেহীন : ১৯/১৪৯১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৯/১৪৯১
وَعَنْ شَكَلِ بنِ حُمَيدٍ رضي الله عنه قَالَ: قُلتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، علِّمْنِي دُعَاءً، قَالَ: «قُلْ: اَللهم إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ سَمْعِي، وَمِنْ شَرِّ بَصَرِي، وَمِنْ شَرِّ لِسَانِي، وَمِنْ شَرِّ قَلْبِي، وَمِنْ شَرِّ مَنِيِّي». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن
শাকাল ইবনে হুমাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি নিবেদন করলাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে একটি দো’আ শিখিয়ে দিন।’ তিনি বললেন, “বল,’আল্লা-হুম্মা ইন্নী আঊযু বিকা মিন শার্রি সাম্য়ী, অমিন শার্রি বাস্বারী, অমিন শার্রি লিসানী, অমিন শার্রি ক্বালবী, অমিন শার্রি মানিইয়্যী।”অর্থাৎ হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি তোমার নিকট আমার কর্ণ, চক্ষু, রসনা, অন্তর এবং বীর্য (যৌনাঙ্গে)র অনিষ্ট থেকে শরণ চাচ্ছি। (আবূ দাউদ, তিরমিযী, হাসান)[১]
তিরমিযী ৩৪৯২, নাসায়ী ৫৪৫৫, ৫৪৫৬, আবূ দাউদ ১৫৫১
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৯/১৪৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয়: ইন্দ্রিয়ের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়। শাকাল ইবনে হুমাইদ (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে একটি দোয়া শেখার অনুরোধ করেন। নবীজি তাঁকে শেখান—হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে আমার কান, চোখ, জিহ্বা, অন্তর এবং যৌনাঙ্গের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই। এই দোয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনের খুব কাছের বিষয় নিয়ে। আমরা যা শুনি, দেখি, বলি, মনে রাখি এবং কামনার ক্ষেত্রে যা করি—এসবের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর সাহায্য দরকার। তাই এটি জিহ্বার অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া, চোখের হেফাজতের দোয়া এবং অন্তরের অনিষ্ট থেকে আশ্রয়ের দোয়া হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কান, চোখ ও জিহ্বার ব্যবহার নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
- অন্তরের অনিষ্ট থেকেও আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া হয়েছে।
- নিজের কামনা নিয়ন্ত্রণে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া নবীজির শিক্ষা।
