১/১৪. অধ্যায়ঃ
ইবাদতে মধ্যমপন্থা অবলম্বন
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ طه ١ مَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡقُرۡءَانَ لِتَشۡقَىٰٓ ٢ ﴾ [طه: ١، ٢]অর্থাৎ “ত্বা-হা-। তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করিনি।” (সূরা ত্বাহা ১-২ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ ﴾ [البقرة: ١٨٥]অর্থাৎ “আল্লাহ তা’আলা তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিনতা তাঁর কাম্য নয়।” (সূরা বাক্বারাহ ১৮৫ আয়াত)
দ্বীনে বাড়াবাড়ি থেকে সতর্ক থাকার হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/১৪৮
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১৪৮
وعن ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "هلك المتنطعون" قالها ثلاثاً " (رواه مسلم)
ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেন, ’’দ্বীনের ব্যাপারে নিজের পক্ষ থেকে কঠোরতা অবলম্বনকারীরা ধ্বংস হয়ে গেল। (অথবা ধ্বংস হোক।)’’ এ কথা তিনি তিনবার বললেন।[১]
মুসলিম ২৬৭০, আবূ দাউদ ৪৬০৮, আহমাদ ৩৬৪৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই ছোট হাদিসে বড় সতর্কতা আছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, দ্বীনের ব্যাপারে নিজের পক্ষ থেকে কঠোরতা অবলম্বনকারীরা ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি কথাটি তিনবার বলেছেন। তিনবার বলার মাধ্যমে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়। দ্বীনে বাড়াবাড়ি মানে এমন কঠোরতা নেওয়া, যা আল্লাহ ও রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর দেখানো সহজ পথের সঙ্গে মেলে না। এই হাদিস আমাদের শেখায়, ইবাদত ভালো; কিন্তু নিজের মন থেকে অতিরিক্ত কষ্ট বানিয়ে নেওয়া ভালো নয়। একজন মুমিনের উচিত কুরআন-সুন্নাহর সীমার মধ্যে থাকা এবং নিজের শক্তি বুঝে আমল করা। কঠোরতা দেখিয়ে নিজেকে বড় ভাবা বা অন্যদের ওপর চাপ দেওয়া ইসলামের সুন্দর পথ নয়। দ্বীনে ভারসাম্য রাখা তাই খুব জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের নামে নিজের পক্ষ থেকে বাড়াবাড়ি করা বিপজ্জনক।
- ইবাদতে সুন্নতের সীমা মেনে চলা দরকার।
- কঠোরতা নয়; ভারসাম্যপূর্ণ আমল মুমিনের জন্য নিরাপদ।
