১৬/২৪৪. অধ্যায়ঃ

যিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করার ফযীলত ও তার প্রতি উৎসাহ দান

মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿وَلَذِكْرُ اللَّهِ أَكْبَرُ﴾ [العنكبوت: ٤٥]“অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ।”(সূরা আনকাবূত ৪৫ আয়াত)আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ﴾ [البقرة: ١٥٢]“তোমরা আমাকে স্মরণ কর; আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব।”(সূরা বাকারা ১৫২ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ﴾ [الاعراف: ٢٠٥]“তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং তুমি উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।”(সূরা আ’রাফ ২০৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴾ [الجمعة: ١٠]“আল্লাহকে অধিক-রূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও।”(সূরা জুমআ ১০ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ﴾ إِلَى قَوْله تَعَالَى: ﴿وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا﴾ [الاحزاب: ٣٥]“নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) পুরুষ ও আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) নারী, ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোযা পালনকারী পুরুষ ও রোযা পালনকারী নারী, যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) পুরুষ ও যৌনাঙ্গ হিফাযতকারী (সংযমী) নারী,আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী নারী---এদের জন্য আল্লাহ ক্ষমা ও মহা প্রতিদান রেখেছেন।”(সূরা আহযাব ৩৫ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْرًا كَثِيرًا ٤١ وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا ٤٢ ﴾ [الاحزاب: ٤١، ٤٢]“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর এবং সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর।”(সূরা আহযাব ৪১-৪২ আয়াত)এ মর্মে আরও অনেক বিদিত আয়াত রয়েছে।

জিহ্বা আল্লাহর যিকিরে সিক্ত রাখুন

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩১/১৪৪৬

وَعَنْ عَبدِ اللهِ بنِ بُسْرٍ رضي الله عنه: أَنَّ رَجُلاً قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، إِنَّ شَرَائِعَ الإِسْلاَمِ قَدْ كَثُرَتْ عَلَيَّ، فَأَخْبِرْنِي بِشَيءٍ أَتَشَبَّثُ بِهِ، قَالَ: «لاَ يَزالُ لِسَانُكَ رَطباً مِنْ ذِكْرِ اللهِ» . رواه الترمذي، وقال: حديث حسن

আব্দুল্লাহ ইবনে বুস্‌র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি বলল, ’হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামী বিধান তো আমার ক্ষেত্রে অনেক বেশী। সুতরাং আপনি আমাকে এমন একটি কাজ বলে দিন, যেটাকে আমি দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারি।’ তিনি বললেন, “আল্লাহর যিকিরে তোমার রসনা যেন সর্বদা সিক্ত থাকে।”(তিরমিযী হাসান)[১]

তিরমিযী ৩৩৭৫, ইবনু মাজাহ ৩৭৯৩

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩১/১৪৪৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে সহজে ধরে রাখা যায় এমন একটি আমলের কথা জানতে চাইলেন। তিনি বললেন, আল্লাহর যিকিরে তোমার রসনা যেন সর্বদা সিক্ত থাকে। এখানে যিকিরকে এমন একটি আমল হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা মানুষ নিজের ব্যস্ত জীবনেও ধরে রাখতে পারে। ইসলামের বিধান অনেক, কিন্তু এই ব্যক্তি একটি শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার মতো আমল চাইছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে আল্লাহর স্মরণে মুখ ব্যস্ত রাখার দিকনির্দেশনা দিলেন। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর যিকির শুধু নির্দিষ্ট সময়ের আমল নয়; চলাফেরা, কাজকর্ম ও অবসরের মাঝেও মুখে ও মনে আল্লাহকে স্মরণ করা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ব্যস্ত জীবনে আল্লাহর যিকির সহজে ধরে রাখার মতো আমল।
  • জিহ্বাকে ভালো কথায় ও আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত রাখা উচিত।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) সহজ কিন্তু ধারাবাহিক আমলের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
  • যিকির নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা মুসলিম জীবনের ভালো পথ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন