১৫/২৪৩. অধ্যায়ঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করার আদেশ, তার মাহাত্ম্য ও শব্দাবলী
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾ (الاحزاب: ٥٦“নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর প্রতি সালাত-দরুদ পেশ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।”(সূরা আহযাব ৫৬ আয়াত)
দোয়ার আগে আল্লাহর প্রশংসা ও দরূদ পড়ার নিয়ম
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/১৪১২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/১৪১২
وَعَنْ فَضَالَةَ بنِ عُبَيْدٍ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَجُلاً يَدْعُو فِي صَلاَتِهِ لَمْ يُمَجِّدِ الله تَعَالَى، وَلَمْ يُصَلِّ عَلَى النَّبيِّ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه : «عَجِلَ هَذَا» ثُمَّ دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ - أَوْ لِغَيْرِهِ -: «إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَلْيَبْدَأْ بِتَحْمِيدِ رَبِّهِ سُبْحَانَهُ، وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ، ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ يَدْعُو بَعْدُ بِمَا شَاءَ» . رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
ফাযালা ইবনে উবাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি লোককে নামাযে প্রার্থনা করতে শুনলেন। সে কিন্তু তাতে আল্লাহর প্রশংসা করেনি এবং নবী (ﷺ)-এর উপর দরূদও পড়েনি। এ দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “লোকটি তাড়াহুড়ো করল।” অতঃপর তিনি তাকে ডাকলেন ও তাকে অথবা অন্য কাউকে বললেন, “যখন কেউ দো’আ করবে, তখন সে যেন তার পবিত্র প্রতিপালকের প্রশংসা বর্ণনা যোগে ও আমার প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করে দো’আ আরম্ভ করে, তারপর যা ইচ্ছা (যথারীতি) প্রার্থনা করে।”(আবু দাউদ, তিরমিযী)[১]
আবূ দাউদ ১৪৮১, তিরমিযী ৩৪৭৬, ৩৪৭৭, নাসায়ী ১২৮৪, আহমাদ ২৩৪১৯
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১৪১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এক ব্যক্তিকে নামাজে দোয়া করতে শুনলেন। সে দোয়ায় আল্লাহর প্রশংসা করেনি এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর দরূদও পড়েনি। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, লোকটি তাড়াহুড়ো করেছে। এরপর তিনি শেখালেন, কেউ দোয়া করলে প্রথমে পবিত্র প্রতিপালকের হামদ ও প্রশংসা করবে, তারপর নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর দরূদ ও সালাম পাঠ করবে, তারপর যা ইচ্ছা দোয়া করবে। হাদিসটি দোয়ার একটি সুন্দর ক্রম শেখায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দোয়া শুধু চাওয়া নয়; বরং আল্লাহর প্রশংসা ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর সম্মান দিয়ে শুরু করা। এতে বান্দার ভাষা সুন্দর হয়, মন বিনয়ী হয় এবং দোয়ার আদব পূর্ণতা পায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দোয়ার শুরুতে আল্লাহর হামদ ও প্রশংসা করা উচিত।
- দোয়ার আগে নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর দরূদ পাঠ করার শিক্ষা এসেছে।
- শুধু নিজের চাওয়া নিয়ে তাড়াহুড়ো করা ভালো আদব নয়।
- দোয়া করার ভাষায় বিনয় ও সম্মান থাকা জরুরি।
