১/২. অধ্যায়ঃ
তওবার বিবরণ
উলামা সম্প্রদায়ের উক্তি এই যে, প্রত্যেক পাপ থেকে তওবা করা (চিরতরে প্রত্যাবর্তন করা) ওয়াজেব (অবশ্য-কর্তব্য)। যদি গোনাহর সম্পর্ক আল্লাহর (অবাধ্যতার) সঙ্গে থাকে এবং কোন মানুষের অধিকারের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে এ ধরনের তওবা কবুলের জন্য তিনটি শর্ত রয়েছে।১। পাপ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে।২। পাপে লিপ্ত হওয়ার জন্য অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।৩। ঐ পাপ আগামীতে দ্বিতীয়বার না করার দৃঢ় সঙ্কল্প করতে হবে। সুতরাং যদি এর মধ্যে একটি শর্তও লুপ্ত হয়, তাহলে সেই তওবা বিশুদ্ধ হবে না।পক্ষান্তরে যদি সেই পাপ মানুষের অধিকার সম্পর্কিত হয়, তাহলে তা গ্রহণীয় হওয়ার জন্য চারটি শর্ত আছে। উপরোক্ত তিনটি এবং চতুর্থ শর্ত হল, হকদারদের হক ফিরিয়ে দিতে হবে। যদি অবৈধ পন্থায় কারো মাল বা অন্য কিছু নিয়ে থাকে, তাহলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। আর যদি কারো উপর মিথ্যা অপবাদ দেয় অথবা অনুরূপ কোনো দোষ করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে শাস্তি নিতে নিজেকে পেশ করতে হবে অথবা তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। যদি কারো গীবত করে থাকে, তাহলে তার কাছে তা বৈধ করে নেবে ।সমস্ত পাপ থেকে তওবাহ করা ওয়াজেব। আংশিক পাপ থেকে তওবাহ করলে সেই তওবাহ হকপন্থী আলেমগণের নিকট গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে এবং অবশিষ্ট পাপ রয়ে যাবে। তওবা ওয়াজেব হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসে প্রচুর প্রমাণ রয়েছে এবং এ ব্যাপারে উম্মতের ঐকমত্যও বিদ্যমান।আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿ وَتُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ﴾ [النور: ٣١]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (সূরা নূর ৩১ আয়াত)﴿ وَأَنِ ٱسۡتَغۡفِرُواْ رَبَّكُمۡ ثُمَّ تُوبُوٓاْ إِلَيۡهِ ﴾ [هود: ٣]অর্থাৎ “তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট (পাপের জন্য) ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁর কাছে তওবা (প্রত্যাবর্তন) কর।” (সূরা হূদ ৩ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ تُوبُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ تَوۡبَةٗ نَّصُوحًا ﴾ [التحريم: ٨]অর্থাৎ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তওবা কর বিশুদ্ধ তওবা।” (সূরা তাহরীম ৮ আয়াত)
ইস্তিগফার ও তওবা: প্রতিদিন ক্ষমা চাওয়ার নববী শিক্ষা
রিয়াদুস সলেহিন : ১/১৪
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১/১৪
وعَنْ أبي هُرَيْرَةَ رضي االله عنه قال : سمِعتُ رسول االله صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم يَقُولُ : » واللَّه إِنِّيلأَسْتَغْفرُ االله ، وَأَتُوبُ إِليْه ، في اليَوْمِ ، أَآثر مِنْ سَبْعِين مرَّةً « رواه البخاري .
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, ’’আল্লাহর কসম! আমি প্রত্যহ ৭০ বারের অধিক আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা ও তওবা করি।’’[১]
সহীহুল বুখারী ৬৩০৭, তিরমিযী ৩২৫৯, ইবনুূু মাজাহ ৩৮১৬, আহমাদ ৭৭৩৪, ৮২৮৮, ৯৫১৫
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১/১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নিয়মিত ইস্তিগফার ও তওবার কথা এসেছে। তিনি বলেছেন, আল্লাহর কসম, আমি প্রতিদিন সত্তরের বেশি বার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর দিকে তওবা করি। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মতো মহান ব্যক্তিত্ব যখন এতবার ইস্তিগফার করতেন, তখন সাধারণ মুসলিমের জন্য এতে বড় শিক্ষা আছে। মানুষের জীবন ভুল, অবহেলা ও দুর্বলতায় ভরা। তাই আল্লাহর কাছে ফিরে আসা, ক্ষমা চাওয়া এবং নিজের অবস্থাকে ঠিক করার চেষ্টা করা জরুরি। এই তওবার হাদিস আমাদের শেখায়, তওবা শুধু বড় ভুলের পর নয়; বরং প্রতিদিনের জীবনের অংশ হওয়া উচিত। ইস্তিগফার অন্তরকে নরম করে এবং বান্দাকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিদিন আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া নববী শিক্ষা।
- তওবা শুধু বড় পাপের পর নয়, নিয়মিত আমলও হতে পারে।
- ইস্তিগফার মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে রাখে।
- নিজের ভুল ও দুর্বলতা বুঝে ক্ষমা চাওয়া দরকার।
