১৩/২৪১. অধ্যায়ঃ
ইলমের ফযীলত
আল্লাহ বলেন,﴿ وَقُلْ رَبِّ زِدْنِي عِلْمًا ﴾ (طه: ١١٤)অর্থাৎ বল, হে আমার প্রতিপালক! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি কর।(ত্বা-হা ১১৪ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ ﴾ (الزمر: ٩অর্থাৎ বল, যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান?(যুমার ৯ আয়াত)আল্লাহ আরও বলেন,﴿يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ ﴾ (المجادلة: ١١অর্থাৎ যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদেরকে বহু মর্যাদায় উন্নত করবেন।(মুজাদালা ১১ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেন,﴿إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ﴾ (فاطر: ٢٨অর্থাৎ আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে জ্ঞানীরাই তাঁকে ভয় করে থাকে।(ফাত্বের ২৮ আয়াত)
আলেমের ফযীলত: মানুষকে কল্যাণ শেখানোর মর্যাদা
রিয়াদুস সলেহিন : ১২/১৩৯৫
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১২/১৩৯৫
وَعَن أَبي أُمَامَة رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «فَضْلُ العَالِمِ عَلَى العَابِدِ كَفَضْلِي عَلَى أَدْنَاكُمْ» ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم : إِنَّ اللهَ وَمَلاَئِكَتَهُ وَأَهْلَ السَّماوَاتِ وَالأَرْضِ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا وَحَتَّى الحُوْتَ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِي النَّاسِ الخَيْرَ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “আলেমের ফযীলত আবেদের উপর ঠিক সেই রূপ, যেরূপ আমার ফযীলত তোমাদের উপর।” তারপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, আসমান-জমিনের সকল বাসিন্দা এমনকি গর্তের মধ্যে পিঁপড়ে এবং (পানির মধ্যে) মাছ পর্যন্ত মানবমন্ডলীর শিক্ষাগুরুদের (আলিমদের) জন্য মঙ্গল কামনা ও নেক দো’আ করে থাকে।”(তিরমিযী হাসান)[১]
তিরমিযী ২৬৮৫, দারেমী ২৮৯
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১২/১৩৯৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলেমের ফযীলত ও মানুষকে ভালো শিক্ষা দেওয়ার মর্যাদা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আলেমের মর্যাদা আবেদের উপর এমন, যেমন তাঁর মর্যাদা সাহাবীদের মধ্যে একজন সাধারণ ব্যক্তির উপর। এরপর তিনি জানান, আল্লাহ, ফেরেশতারা, আসমান-জমিনের বাসিন্দারা, এমনকি গর্তের পিঁপড়া ও পানির মাছ পর্যন্ত মানুষের কল্যাণ শেখানো শিক্ষকদের জন্য মঙ্গল কামনা ও দোয়া করে। এখানে আলেম বলতে এমন ব্যক্তি বোঝানো হয়েছে, যে উপকারী জ্ঞান নিয়ে মানুষকে ভালো শেখায়। হাদিসটি দেখায়, ইবাদত গুরুত্বপূর্ণ হলেও জ্ঞান দিয়ে মানুষের উপকার করা বড় মর্যাদার কাজ। তাই শেখা ও শেখানো—দুটিই দায়িত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত কাজ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আলেমের মর্যাদা আবেদের উপর বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে।
- মানুষকে কল্যাণ শেখানো বড় নেক কাজ।
- শিক্ষকের কাজ শুধু বলা নয়, মানুষকে ভালো পথে নেওয়া।
- ইলমের উপকার যত বিস্তৃত, মর্যাদাও তত বড় হতে পারে।
