১২/২৪০. অধ্যায়ঃ
ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ার সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতার অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মকুব করার ফযীলত
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ﴾(البقرة: ٢١٥)অর্থাৎ তোমরা যে কোন সৎকাজ কর না কেন, আল্লাহ তা সম্যকরূপে অবগত।(সূরা বাকারাহ ২১৫ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿ وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ ﴾ (هود: ٨٥অর্থাৎ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা মাপ ও ওজনকে পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন কর এবং লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিয়ো না।(হুদ ৮৫ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴿ وَيْلٌ لِلْمُطَفِّفِينَ ١ الَّذِينَ إِذَا اكْتَالُوا عَلَى النَّاسِ يَسْتَوْفُونَ ٢ وَإِذَا كَالُوهُمْ أَوْ وَزَنُوهُمْ يُخْسِرُونَ ٣ أَلَا يَظُنُّ أُولَٰئِكَ أَنَّهُمْ مَبْعُوثُونَ ٤ لِيَوْمٍ عَظِيمٍ ٥ يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ ٦ ﴾ (المطففين: ١، ٦অর্থাৎ ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে। এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। তারা কি চিন্তা করে না যে, তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে। এক মহা দিবসে; যেদিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালকের সম্মুখে।(মুত্বাফফিফীন ১-৬ আয়াত)
ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেওয়ার ফজিলত ও মানবিক লেনদেন
রিয়াদুস সালেহীন : ৭/১৩৮১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/১৩৮১
وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَنْظَرَ مُعْسِراً، أَوْ وَضَعَ لَهُ، أَظَلَّهُ اللهُ يَومَ القِيَامَةِ تَحْتَ ظِلِّ عَرْشِهِ يَومَ لاَ ظِلَّ إِلاَّ ظِلُّهُ». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি পরিশোধে অক্ষম কোন ঋণগ্রহীতাকে (তার সচ্ছলতা আসা অবধি) অবকাশ দেবে বা তাকে ক্ষমা করে দেবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিনে নিজ আরশের ছায়াতলে স্থান দেবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না।”(তিরমিযী হাসান সহীহ)[১]
তিরমিযী ১৩০৬, ইবনু মাজাহ ২৪১৭, আহমাদ ৮৪৯৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/১৩৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঋণগ্রহীতাকে অবকাশ দেওয়ার ফজিলত খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। কেউ যদি ঋণ পরিশোধে সত্যিই অক্ষম হয়, তাকে চাপ না দিয়ে সচ্ছল হওয়া পর্যন্ত সময় দেওয়া একটি বড় নেক কাজ। আরও বড় দয়া হলো, সামর্থ্য থাকলে তার ঋণ ক্ষমা করে দেওয়া। হাদিসে বলা হয়েছে, এমন ব্যক্তিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ার নিচে স্থান দেবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। তাই ইসলামে লেনদেন শুধু টাকা আদায়ের বিষয় নয়; এতে দয়া, ছাড়, ধৈর্য ও মানুষের কষ্ট বোঝার শিক্ষা আছে। পাওনা চাইতে হবে, কিন্তু অসহায় মানুষকে ভেঙে দেওয়ার মতো আচরণ করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অক্ষম ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়া ইসলামে প্রশংসিত কাজ।
- ঋণ মাফ করা দয়া ও মানবিকতার সুন্দর উদাহরণ।
- লেনদেনে কঠোরতার বদলে সহানুভূতি রাখা উচিত।
- কিয়ামতের দিনের ছায়ার কথা এই আমলের বড় মর্যাদা বোঝায়।
