১২/২৩৬. অধ্যায়ঃ
ক্রীতদাস মুক্ত করার মাহাত্ম্য
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴿فَلَا اقْتَحَمَ الْعَقَبَةَ وَمَا أَدْرَاكَ مَا الْعَقَبَةُ﴾(البلد: ١١، ١٣)অর্থাৎ কিন্তু সে গিরি সংকটে প্রবেশ করল না। তুমি কি জানো যে, গিরি সংকট কি? তা হচ্ছে দাসকে মুক্তি প্রদান।(সূরা বালাদ ১১-১৩ আয়াত)
ক্রীতদাস মুক্ত করার ফজিলত: আগুন থেকে মুক্তির আশা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৩৬৬
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৩৬৬
وَعَن أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «مَنْ أَعْتَقَ رَقَبَةً مُسْلِمَةً أَعْتَقَ اللهُ بِكُلِّ عُضْوٍ مِنْهُ، عُضْواً مِنْهُ في النَّارِ، حَتَّى فَرْجَهُ بِفَرْجِهِ». متفقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ক্রীতদাস মুক্ত করবে, আল্লাহ ঐ ক্রীতদাসের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে তার একেকটি অঙ্গকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে মুক্ত করবেন। এমনকি তার গুপ্তা-ঙ্গের বিনিময়ে তার গুপ্তা-ঙ্গও (মুক্ত করে দেবেন)।”(বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ২৫১৭, ৬৭১৫, মুসলিম ১৫০৯, তিরমিযী ১৫৪১, আহমাদ ৯১৫৪, ৯২৫৬, ৯২৭৮, ৯৪৮১, ১০৪২২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৩৬৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসলিম ক্রীতদাস মুক্ত করার ফজিলত খুব গভীরভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবূ হুরাইরা (রাঃ)-কে বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলিম ক্রীতদাস মুক্ত করবে, আল্লাহ সেই ক্রীতদাসের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে মুক্তকারীর একেকটি অঙ্গকে আগুন থেকে মুক্ত করবেন। এমনকি হাদিসে অঙ্গের পূর্ণ মিলের কথাও এসেছে। এতে বোঝা যায়, মানুষকে দাসত্ব থেকে মুক্ত করা বড় নেক আমল। আজকের পাঠকের জন্য মূল শিক্ষা হলো, মানুষের মুক্তি, মর্যাদা ও কল্যাণের কাজে এগিয়ে আসা ইসলামে প্রশংসিত। তবে হাদিসের নির্দিষ্ট ভাষা ক্রীতদাস মুক্ত করার আমল নিয়ে, তাই ব্যাখ্যায় সেটিই কেন্দ্র রাখা উচিত। তাই এই বর্ণনা পড়ার সময় মূল শব্দ, প্রশ্ন ও উত্তরের সীমা ধরে বোঝাই নিরাপদ; অতিরিক্ত দাবি করলে হাদিসের সরল শিক্ষা আড়াল হতে পারে। পাঠকের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্রীতদাস মুক্ত করা হাদিসে বড় নেক আমল হিসেবে এসেছে।
- মানুষের মুক্তি ও মর্যাদার কাজ আল্লাহর কাছে মূল্যবান।
- সওয়াবের কথা হাদিসে নির্দিষ্টভাবে মুসলিম ক্রীতদাস মুক্ত করার সঙ্গে যুক্ত।
