১১/২৩৩. অধ্যায়ঃ
হজ্জ্বের অপরিহার্যতা ও তার ফযীলত
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ﴾ (ال عمران: ٩٧অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা তার (পক্ষে) অবশ্য কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে (সে জেনে রাখুক যে), আল্লাহ জগতের উপর নির্ভরশীল নন। (সূরা আলে ইমরান ৯৭ আয়াত)
হজ্জে ব্যবসা-বাণিজ্য: প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ১৪/১২৯২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১৪/১২৯২
وَعَنِ ابنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: كَانَتْ عُكَاظُ، وَمَجِنَّةُ، وَذُو المَجَازِ أَسْوَاقاً فِي الجَاهِلِيَّةِ، فَتَأَثَّمُوا أَنْ يَتَّجِرُوا في المَوَاسِمِ، فَنَزَلَتْ: ﴿ليس عليكم جناح أن تبتغوا فضلا من ربكم﴾ (البقرة: ١٩٨) في مَوَاسِمِ الحَجِّ . رواه البخاري
ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
'উকায', মাজিন্নাহ ও যুল-মাজায নামক স্থানগুলিতে (ইসলাম আসার পূর্বে) জাহেলী যুগের বাজার ছিল। তাই সাহাবায়ে কেরাম হজ্জের মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্যমূলক কাজ-কর্মকে পাপ মনে করলেন। তার জন্য এই আয়াত অবতীর্ণ হল, যার অর্থ, “(হজ্জের সময়) তোমাদের জন্য তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনায় (ব্যবসা-বাণিজ্যে) কোন দোষ নেই।” (সূরা বাকারাহ ১৯৮ আয়াত, বুখারী)[১]
সহীহুল বুখারী ১৭৭০, ২০৫০, ৪৫১৯, আবূ দাউদ ১৭৩৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১৪/১২৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, উকায, মাজিন্নাহ ও যুল-মাজায জাহেলী যুগের বাজার ছিল। ইসলাম আসার পর সাহাবায়ে কেরাম হজ্জের মৌসুমে ব্যবসা-বাণিজ্য করাকে পাপ মনে করেছিলেন। তখন সূরা বাকারার ১৯৮ নম্বর আয়াত নাযিল হয়, যার অর্থ: হজ্জের সময় তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ কামনায় তোমাদের কোনো দোষ নেই। এখানে মূল শিক্ষা হলো, হজ্জের মৌসুমে বৈধ উপায়ে রিজিক অনুসন্ধান করা নিজে নিজে পাপ নয়। তবে হজ্জের আসল লক্ষ্য যেন হারিয়ে না যায়, সেটিও বুঝে চলা দরকার। এই হাদিস মানুষের ভুল ধারণা দূর করে। ইবাদত ও বৈধ জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য রাখা ইসলামের সহজ ও সুন্দর শিক্ষার অংশ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জের সময়ে বৈধ ব্যবসা নিজে নিজে পাপ নয়।
- ভুল ধারণা হলে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে তা সংশোধন করতে হয়।
- ইবাদতের মূল লক্ষ্য ঠিক রেখে জীবিকার কাজ করা যায়।
