১১/২৩৩. অধ্যায়ঃ
হজ্জ্বের অপরিহার্যতা ও তার ফযীলত
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ﴾ (ال عمران: ٩٧অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা তার (পক্ষে) অবশ্য কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে (সে জেনে রাখুক যে), আল্লাহ জগতের উপর নির্ভরশীল নন। (সূরা আলে ইমরান ৯৭ আয়াত)
উমরাহর ফজিলত ও মাবরূর হজ্জের প্রতিদান জান্নাত
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/১২৮৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১২৮৩
وَعَنْه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «العُمْرَةُ إِلَى العُمْرَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَينَهُمَا، وَالحَجُّ المَبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلاَّ الجَنَّةَ». متفقٌ عَلَيْهِ
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উক্ত রাবী (আবূ হুরাইরা) (রাঃ) থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “একটি উমরাহ পরবর্তী উমরাহ পর্যন্ত ঐ দুয়ের মধ্যবর্তী সময়ে কৃত পাপ-রাশির জন্য কাফফারা (মোচন-কারী) হয়। আর ’মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছুই নয়।” (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ১৭৭৩, মুসলিম ১৩৪৯, তিরমিযী ৯৩৩, নাসায়ী ২৬২২, ২৬২৩, ২৬২৯, ইবনু মাজাহ ২৮৮৭, ২৮৮৮, আহমাদ ৭৩০৭, ৯৬২৫, ৯৬৩২, মুওয়াত্তা মালিক ৭৭৬, দারেমী ১৭৯৫
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১২৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উমরাহ ও হজ্জের ফজিলত একসঙ্গে বলেছেন। এক উমরাহ থেকে পরের উমরাহ পর্যন্ত মাঝের সময়ের পাপের জন্য কাফফারা হয়—এটি বান্দার জন্য বড় রহমত। তবে হাদিসের ভাষায় মাবরূর হজ্জের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়। এখানে মাবরূর হজ্জ মানে এমন হজ্জ, যা পাপ ও অন্যায় থেকে বেঁচে, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা হয়। এই হাদিস মুসলিমকে বারবার আল্লাহর দিকে ফিরে আসার শিক্ষা দেয়। উমরাহ বান্দাকে নতুন করে শুদ্ধ হওয়ার সুযোগ দেয়, আর বিশুদ্ধ হজ্জ জীবনের বড় সফলতার দরজা খুলে দেয়। তাই হজ্জ ও উমরাহ শুধু সফর নয়; এগুলো তাওবা, আশা ও আল্লাহর নৈকট্যের পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উমরাহ বান্দার পাপ মোচনের কারণ হতে পারে।
- মাবরূর হজ্জের মর্যাদা অত্যন্ত বড়।
- হজ্জ ও উমরাহতে শুদ্ধতা ও আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রধান বিষয়।
