১১/২৩৩. অধ্যায়ঃ
হজ্জ্বের অপরিহার্যতা ও তার ফযীলত
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ﴾ (ال عمران: ٩٧অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা তার (পক্ষে) অবশ্য কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে (সে জেনে রাখুক যে), আল্লাহ জগতের উপর নির্ভরশীল নন। (সূরা আলে ইমরান ৯৭ আয়াত)
সর্বোত্তম আমল হিসেবে ঈমান, জিহাদ ও হজ্জে মাবরূরের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/১২৮১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১২৮১
وَعَنْهُ، قَالَ: سُئِلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ العَمَلِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللهِ وَرسولِهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا ؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا ؟ قَالَ: «حَجٌّ مَبرُورٌ». متفقٌ عَلَيْهِ
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ’সর্বোত্তম কাজ কি?’ তিনি বললেন, “আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি ঈমান রাখা।” পুনরায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ’অতঃপর কি?’ তিনি বললেন, “মাবরূর’ (বিশুদ্ধ বা গৃহীত) হজ্জ।” (বুখারী ও মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ২৬, ১৫১৯, মুসলিম ৮৩, তিরমিযী ১৬৫৮, নাসায়ী ২৬২৫, ৩১৩০, আহমাদ ৭৪৫৯, ৭৫৩৬, ৭৫৮৫, ৭৮০৩, ৮০১৪, ৮৩৭৪, ৯৪০৭, দারেমী ২৩৯৩
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১২৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে সর্বোত্তম কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি প্রথমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমানের কথা বলেছেন। এতে বোঝা যায়, নেক কাজের ভিত্তি হলো সঠিক ঈমান। এরপর তিনি আল্লাহর পথে জিহাদের কথা বলেন এবং তারপর মাবরূর হজ্জের কথা উল্লেখ করেন। এখানে মাবরূর হজ্জ বলতে এমন হজ্জ বোঝানো হয়েছে, যা বিশুদ্ধভাবে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং পাপ থেকে বেঁচে পালন করা হয়। হজ্জের ফজিলত বুঝতে হলে এই ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ: ঈমান আগে, তারপর আল্লাহর পথে ত্যাগ, তারপর কবুল হজ্জ। তাই এই হাদিস মুসলিমকে শেখায়, বড় আমল শুধু বাহ্যিক কাজ নয়; এর সঙ্গে বিশ্বাস, আনুগত্য ও শুদ্ধতা জড়িত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেক আমলের মূল ভিত্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান।
- মাবরূর হজ্জ আল্লাহর কাছে মর্যাদাপূর্ণ আমল।
- আমলের মর্যাদা বুঝতে সঠিক ঈমান ও শুদ্ধ নিয়ত দরকার।
