১১/২৩৩. অধ্যায়ঃ
হজ্জ্বের অপরিহার্যতা ও তার ফযীলত
মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,﴿وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا ۚ وَمَنْ كَفَرَ فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ﴾ (ال عمران: ٩٧অর্থাৎ মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ গৃহের হজ করা তার (পক্ষে) অবশ্য কর্তব্য। আর যে অস্বীকার করবে (সে জেনে রাখুক যে), আল্লাহ জগতের উপর নির্ভরশীল নন। (সূরা আলে ইমরান ৯৭ আয়াত)
হজ্জ ফরয: সাধ্যমত পালন ও অযথা প্রশ্ন থেকে বাঁচার শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১২৮০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১২৮০
وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ، قَدْ فَرَضَ اللهُ عَلَيْكُم الحَجَّ فَحُجُّوا». فَقَالَ رَجُلٌ: أَكُلَّ عَامٍ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم ؟ فَسَكَتَ، حَتَّى قَالَهَا ثَلاَثاً . فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «لَوْ قُلْتُ نَعَمْ لَوَجَبَتْ، وَلَمَا اسْتَطَعْتُمْ» ثُمَّ قَالَ: «ذَرُوْنِي مَا تَرَكْتُكُمْ ؛ فَإِنَّمَا هَلَكَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ بِكَثْرَةِ سُؤَالِهِمْ، وَاخْتِلاَفِهِمْ عَلَى أَنْبِيَائِهِمْ، فَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيءٍ فَأتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ، وَإِذَا نَهَيْتُكُمْ عَن شَيْءٍ فَدَعُوهُ». رواه مسلم
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনে ভাষণ দানকালে বললেন, “হে লোক সকল! আল্লাহ তোমাদের উপর (বায়তুল্লাহর) হজ্জ ফরয করেছেন, অতএব তোমরা হজ্জ পালন কর।” একটি লোক বলে উঠল, ’হে আল্লাহর রাসূল! প্রতি বছর তা করতে হবে কি?’ তিনি নিরুত্তর থাকলেন এবং লোকটি শেষ পর্যন্ত তিনবার জিজ্ঞাসা করল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, “যদি আমি বলতাম, হ্যাঁ। তাহলে (প্রতি বছরে) হজ্জ ফরয হয়ে যেত। আর তোমরা তা পালন করতে অক্ষম হতে।” অতঃপর তিনি বললেন, “তোমরা আমাকে (আমার অবস্থায়) ছেড়ে দাও, যতক্ষণ আমি তোমাদেরকে (তোমাদের সব সব অবস্থায়) ছেড়ে রাখব। কেননা, তোমাদের পূর্বেকার জাতিরা অতি মাত্রায় জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের পয়গম্বরদের বিরোধিতা করার দরুন ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদেরকে কোন কিছু করার আদেশ দেব, তখন তোমরা তা সাধ্যমত পালন করবে। আর যা করতে নিষেধ করব, তা থেকে বিরত থাকবে।” (মুসলিম) [১]
সহীহুল বুখারী ৭২৮৮, মুসলিম ১৩৩৭, তিরমিযী ২৬৭৯, নাসায়ী ২৬১৯, ইবনু মাজাহ ১, ২, আহমাদ ৭৩২০, ৭৪৪৯, ৮৪৫০, ৯২৩৯, ৯৪৮৮, ৯৫৫৭৭, ৯৮৯০, ১০২২৯, ১০৩২৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১২৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ভাষণে বলেন, আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরয করেছেন, তাই তোমরা হজ্জ পালন কর। একজন লোক জিজ্ঞাসা করল, প্রতি বছর কি হজ্জ করতে হবে? সে তিনবার জিজ্ঞাসা করলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যদি তিনি হ্যাঁ বলতেন, তবে প্রতি বছর হজ্জ ফরয হয়ে যেত এবং তারা তা করতে অক্ষম হতো। এরপর তিনি বলেন, যতক্ষণ তিনি কিছু না বলেন, ততক্ষণ তাঁকে ছেড়ে দিতে। পূর্বেকার জাতিরা বেশি প্রশ্ন ও নবীদের বিরোধিতার কারণে ধ্বংস হয়েছে। শেষে তিনি বলেন, কোনো আদেশ দিলে সাধ্যমত পালন করতে, আর নিষেধ করলে তা থেকে বিরত থাকতে। এই হাদিসে হজ্জ ফরয, সাধ্যমত আমল এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন এড়ানোর শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জ ফরয হওয়ার ঘোষণা এই হাদিসে এসেছে।
- অপ্রয়োজনীয় বেশি প্রশ্ন কখনো কঠিনতার কারণ হতে পারে।
- আদেশ পাওয়া গেলে সাধ্যমত পালন করতে হবে।
- নিষেধ করা বিষয় থেকে বিরত থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
