৯/২২৪. অধ্যায়ঃ
রোযা সম্পর্কিত কিছু জ্ঞাতব্য বিষয়
রোজা অবস্থায় ওজু: নাকে পানি টানার সতর্ক নিয়ম
রিয়াদুস সালেহীন : ২/১২৫১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ২/১২৫১
وَعَنْ لَقِيطِ بنِ صَبِرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، أَخْبِرْنِي عَنِ الوُضُوءِ ؟ قَالَ: «أَسْبِغِ الوُضُوءَ، وَخَلِّلْ بَيْنَ الأَصَابِعِ، وَبَالِغْ فِي الاسْتِنْشَاقِ، إِلاَّ أَنْ تَكُونَ صَائِماً». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح
লাক্বীত্ব ইবনে সাবেরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নিবেদন করলাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! ওজু সম্পর্কে আমাকে বলুন।’ তিনি বললেন, “পূর্ণাঙ্গরূপে ওজু কর। আঙ্গুলগুলোর মধ্যবর্তী জায়গাগুলো খিলাল কর। সজোরে নাকে পানি টেনে (নাক ঝাড়ো); তবে রোযার অবস্থায় নয়।” (অর্থাৎ রোযার অবস্থায় বেশি জোরে নাকে পানি টানা চলবে না।) (আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান)[১]
আবূ দাউদ ১৪২, তিরমিযী ৩৮, ৭৮৮, নাসায়ী ৮৭, ১১৪, ইবনু মাজাহ ৪০৭, ৪৪৮৮, আহমাদ ১৫৯৪৫, ১৫৯৪৬, ১৭৩৯০, দারেমী ৭৯৪
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ২/১২৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওজুর পূর্ণতা এবং রোজার সতর্কতা—দুটি বিষয় একসঙ্গে এসেছে। লাকীত ইবনে সাবিরাহ (রাঃ) ওজু সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে ওজু করো, আঙুলের ফাঁক খিলাল করো এবং নাকে ভালোভাবে পানি টানো; তবে রোজা অবস্থায় নয়। অর্থাৎ সাধারণ অবস্থায় ওজু ভালোভাবে করা দরকার, কিন্তু রোজা থাকলে নাকে খুব জোরে পানি টানার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে। কারণ এতে পানি ভেতরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে। হাদিসের বক্তব্য খুব নির্দিষ্ট—ওজু বাদ দেওয়া নয়, বরং রোজা অবস্থায় অতিরিক্ত জোর না করা। তাই রোজাদার ওজু করবে সুন্দরভাবে, কিন্তু নাকে পানি নেওয়ার সময় সতর্ক থাকবে। রোজার বিধান, ওজুর আদব এবং সতর্কতা—এই হাদিসের মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওজু পূর্ণভাবে করা ইসলামী আদবের অংশ।
- রোজা অবস্থায় নাকে বেশি জোরে পানি টানা থেকে সাবধান থাকতে হবে।
- রোজায় সতর্কতা মানে ওজুতে অবহেলা নয়।
