৯/২২০. অধ্যায়ঃ
নতুন চাঁদ দেখলে যা বলতে হয়
নতুন চাঁদ দেখার দোয়া: নিরাপত্তা, ঈমান ও শান্তির প্রার্থনা
রিয়াদুস সলেহিন : ১/১২৩৬
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১/১২৩৬
عَن طَلحَةَ بنِ عُبَيدِ اللهِ رضي الله عنه: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا رَأَى الهلاَلَ، قَالَ: «اَللهم أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ وَالإيمانِ، وَالسَّلاَمَةِ وَالإسْلاَمِ، رَبِّي وَرَبُّكَ اللهُ، هِلالُ رُشْدٍ وخَيْرٍ» . رواه الترمذي، وقال :حديث حسن
ত্বালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন এই দো’আ পড়তেন,“আল্লা-হুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি অলঈমা-নি অসসালা-মাতি অলইসলা-ম, রাববী অরাববুকাল্লা-হ, (হিলালু রুশদিন অখায়র)।”অর্থ-হে আল্লাহ! তুমি ঐ চাঁদকে আমাদের উপর উদিত কর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে। (হে চাঁদ) আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। (হেদায়েত ও কল্যাণময় চাঁদ!) (তিরমিযী-হাসান, কিন্তু বন্ধনী-ঘেরা শব্দগুলি তিরমিযীতে নেই।) [১]
তিরমিযী ৩৪৫১, আহমাদ ১৪০০, দারেমী ১৬৮৮
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১/১২৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নতুন চাঁদ দেখলে নবী صلى الله عليه وسلم যে দোয়া পড়তেন, তা শেখানো হয়েছে। দোয়ায় আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে চাঁদ উদিত করার প্রার্থনা আছে। এরপর বলা হয়েছে, আমার ও তোমার প্রতিপালক আল্লাহ। এই বাক্য মানুষকে মনে করায়, চাঁদ নিজে কোনো শক্তির মালিক নয়; চাঁদেরও রব আল্লাহ, মানুষেরও রব আল্লাহ। তাই নতুন মাস শুরু হলে মুমিনের মন আল্লাহর দিকে ফিরে যায়। শুধু তারিখ জানা নয়, বরং নতুন সময়কে ঈমান, শান্তি ও কল্যাণের সঙ্গে শুরু করার শিক্ষা এখানে আছে। নতুন চাঁদের দোয়া তাই ছোট হলেও অর্থে খুব সুন্দর ও আল্লাহমুখী। এ দোয়া নতুন মাসকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেওয়ার সুন্দর শিক্ষা দেয়, যেখানে ঈমান ও শান্তি আগে চাওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নতুন চাঁদ দেখলে দোয়া পড়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল।
- দোয়ায় নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের প্রার্থনা আছে।
- চাঁদ ও মানুষের রব একমাত্র আল্লাহ—এ কথা স্মরণ করানো হয়েছে।
- নতুন মাস আল্লাহর কাছে কল্যাণ চেয়ে শুরু করা উচিত।
