৯/২১৬. অধ্যায়ঃ
যাকাতের অপরিহার্যতা এবং তার ফযীলত
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ ٤٣﴾(البقرة: ٤٣)অর্থাৎ তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা ও যাকাত আদায় কর। (বাকারাহ ৪৩ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেছেন,﴿ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ ۚ وَذَٰلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ﴾ (البينة: ٥অর্থাৎ তারা তো আদিষ্ট হয়েছিল আল্লাহর আনুগত্যে বি-শুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠ-ভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং নামায কায়েম করতে ও যাকাত প্রদান করতে। আর এটাই সঠিক ধর্ম। (বাইয়েনাহ ৫ আয়াত)তিনি অন্যত্র আরও বলেছেন,﴿ خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا﴾ [التوبة: ١٠٣]অর্থাৎ তুমি তাদের ধন-সম্পদ হতে সদকা গ্রহণ কর, যার দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশোধিত করে দেবে। (সূরা তওবা ১০৩ আয়াত)
শাহাদাত, নামায ও যাকাত: মুসলিম পরিচয়ের মূল চিহ্ন
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/১২১৭
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/১২১৭
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَيُقِيمُوا الصَّلاةَ، وَيُؤتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ، إِلاَّ بِحَقِّ الإِسْلاَمِ، وَحِسَابُهُم عَلَى الله». متفقٌ عَلَيْهِ
ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ সংগ্রাম করার জন্য আমি আদিষ্ট হয়েছি, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। আর নামায কায়েম করবে ও (ধনের) যাকাত আদায় করবে। যখন তারা এগুলি বাস্তবায়ন করবে, তখন ইসলামী হক (অর্থদণ্ড ইত্যাদি) ছাড়া তারা নিজেদের জান-মাল আমার নিকট হতে সুরক্ষিত করে নেবে। আর (অন্তরের গভীরে কুফরি বা পাপ লুকানো থাকলে) তাদের হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।” (বুখারী, মুসলিম)[১]
সহীহুল বুখারী ২৫, মুসলিম ২২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/১২১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তাঁকে মানুষের বিরুদ্ধে সংগ্রামের আদেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর রাসূল, নামায কায়েম করে এবং যাকাত আদায় করে। যখন তারা এগুলো বাস্তবায়ন করে, তখন ইসলামী হক ছাড়া তাদের জান-মাল সুরক্ষিত হয়, আর তাদের হিসাব আল্লাহর উপর। এই হাদিসের ভাষা গুরুতর, তাই ব্যাখ্যায় সতর্কতা দরকার। এখানে মূল বিষয় হলো শাহাদাত, নামায ও যাকাত মুসলিম সমাজে প্রকাশ্য আনুগত্যের বড় নিদর্শন। অন্তরের হিসাব মানুষ নয়, আল্লাহ জানেন। তাই বাহ্যিক আমল ও আল্লাহর কাছে চূড়ান্ত হিসাব—দুই দিকই এখানে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শাহাদাত, নামায ও যাকাত মুসলিম পরিচয়ের বড় প্রকাশ।
- জান-মালের সুরক্ষার কথা ইসলামী হকের সীমার সাথে এসেছে।
- মানুষের অন্তরের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর কাছে।
