৯/২১২. অধ্যায়ঃ
রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
মহান আল্লাহ বলেন,﴿ وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَىٰ أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَامًا مَحْمُودًا ﴾ (الاسراء: ٧٩অর্থাৎ রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর; এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইসরাইল ৭৯ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿ تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ ﴾ (السجدة: ١٦অর্থাৎ তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী প্রদান করেছি, তা হতে তারা দান করে। (সূরা সেজদা ১৬ আয়াত)তিনি আরও বলেছেন,﴿كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ﴾(الذاريات: ١٧)অর্থাৎ তারা রাত্রির সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত। (সূরা যারিয়াত ১৭ আয়াত)
সর্বোত্তম নামায: দীর্ঘ কিয়ামের সহজ শিক্ষা
রিয়াদুস সলেহিন : ১৮/১১৮৪
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ১৮/১১৮৪
وَعَنْ جَابِرٍ رضي الله عنه قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم أَيُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «طُوْلُ القُنُوْتِ». رواه مسلم
জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সর্বোত্তম নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি বললেন, “দীর্ঘ কিয়াম-যুক্ত নামায।” (মুসলিম) [১]
মুসলিম ৭৫৬, তিরমিযী ৩৮৭, ইবনু মাজাহ ১৪২১, আহমাদ ১৩৮২১, ১৪৭৮৮
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ১৮/১১৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে সর্বোত্তম নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেন, দীর্ঘ কিয়াম-যুক্ত নামায। এখানে কিয়াম বলতে নামাযে দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াতের অবস্থাকে বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি খুব ছোট, কিন্তু শিক্ষা গভীর। নামাযের সৌন্দর্য শুধু রাকআতের সংখ্যা নয়; বরং মনোযোগ, স্থিরতা ও দাঁড়িয়ে আল্লাহর কালাম পাঠের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই হাদিস থেকে নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার শিক্ষা নেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘ কিয়াম সামর্থ্য অনুযায়ী হবে। যার যতটুকু শক্তি আছে, সে ততটুকু মন দিয়ে করবে। এই হাদিস তাহাজ্জুদ নামায, নফল নামায এবং রাতের ইবাদতে ধৈর্য ও মনোযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাযে দীর্ঘ কিয়াম একটি মর্যাদাপূর্ণ আমল।
- রাকআতের সংখ্যা নয়, মনোযোগ ও কুরআন পাঠের গুরুত্বও বড়।
- নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দীর্ঘ নামায পড়া উচিত।
