৯/১৯৩. অধ্যায়ঃ

ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ﴾ (البقرة: ٢٣٨অর্থাৎ তোমরা নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হও; বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাযের প্রতি। (সূরা বাকারাহ ২৩৮ আয়াত)﴿ فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُاْ ٱلزَّكَوٰةَ فَخَلُّواْ سَبِيلَهُمۡۚ ﴾ [التوبة: ٥]অর্থাৎ যদি তারা তওবা করে, যথাযথ নামায পড়ে ও যাকাত প্রদান করে, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। (সূরা তওবা ৫ আয়াত)

কিয়ামতের প্রথম হিসাব: নামাজ ও নফলের ঘাটতি পূরণ

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/১০৮৮

وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ العَبْدُ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلاَتُهُ، فَإنْ صَلَحَتْ، فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ، وَإنْ فَسَدَتْ، فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ، فَإِنِ انْتَقَصَ مِنْ فَرِيضَتِهِ شَيْءٌ، قَالَ الرَّبُّ - عَزَّ وَجَلَّ: اُنْظُرُوا هَلْ لِعَبدِي مِن تَطَوُّعٍ، فَيُكَمَّلُ مِنْهَا مَا انْتَقَصَ مِنَ الفَرِيضَةِ ؟ ثُمَّ تَكُونُ سَائِرُ أَعْمَالِهِ عَلَى هَذَا». رواه التِّرمِذِيُّ، وَقَالَ: حَدِيثٌ حَسَنٌ

আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “নিশ্চয় কিয়ামতের দিন বান্দার (হক্বুক্বুল্লাহর মধ্যে) যে কাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে তা হচ্ছে তার নামায। সুতরাং যদি তা সঠিক হয়, তাহলে সে পরিত্রাণ পাবে। আর যদি (নামায) পণ্ড ও খারাপ হয়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।যদি তার ফরয (ইবাদতের) মধ্যে কিছু কম পড়ে যায়, তাহলে প্রভু বলবেন, ’দেখ তো! আমার বান্দার কিছু নফল (ইবাদত) আছে কি না, যা দিয়ে ফরযের ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে?’ অতঃপর তার অবশিষ্ট সমস্ত আমলের হিসাব ঐভাবে গৃহীত হবে। (তিরমিযী হাসান)[১]

আবূ দাউদ ৮৬৪, তিরমিযী ৪১৩, ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৭, ইবনু মাজাহ ১৪২৫, ১৪২৬, আহমাদ ৭৮৪২, ৯২১০, ১৬৫০১, দারেমী ১৩৫৫

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/১০৮৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে প্রথম হিসাব নেওয়া হবে তার নামাজের। যদি নামাজ ঠিক থাকে, তবে সে সফলতার আশা করবে; আর যদি নামাজ নষ্ট হয়, তবে ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে। হাদিসে আরও এসেছে, ফরজ ইবাদতে ঘাটতি থাকলে আল্লাহর আদেশে দেখা হবে, বান্দার নফল আছে কি না; নফল থাকলে তা দিয়ে ফরজের ঘাটতি পূরণ করা হবে। এখান থেকে নামাজের কেন্দ্রীয় গুরুত্ব বোঝা যায়। ফরজ নামাজকে ঠিক রাখা প্রধান দায়িত্ব, আর নফল ইবাদত ফরজের ঘাটতি পূরণের একটি উপায় হিসেবে এসেছে। তাই মুসলিমের উচিত ফরজ সালাত যত্নে আদায় করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী নফল নামাজের অভ্যাস রাখা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কিয়ামতের প্রথম হিসাব নামাজ সম্পর্কে হবে।
  • ফরজ নামাজে ঘাটতি হলে নফল দিয়ে পূরণের কথা এসেছে।
  • ফরজ সালাত ঠিক রাখা মুমিনের প্রধান দায়িত্ব।
  • নফল ইবাদত ফরজের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন