৯/১৯৩. অধ্যায়ঃ

ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি

আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ﴾ (البقرة: ٢٣٨অর্থাৎ তোমরা নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হও; বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাযের প্রতি। (সূরা বাকারাহ ২৩৮ আয়াত)﴿ فَإِن تَابُواْ وَأَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُاْ ٱلزَّكَوٰةَ فَخَلُّواْ سَبِيلَهُمۡۚ ﴾ [التوبة: ٥]অর্থাৎ যদি তারা তওবা করে, যথাযথ নামায পড়ে ও যাকাত প্রদান করে, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। (সূরা তওবা ৫ আয়াত)

ঈমান, নামাজ ও যাকাত: ইসলামী পরিচয়ের প্রকাশ্য চিহ্ন

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/১০৮৩

وَعَنْه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إِلٰهَ إلاَّ اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَيُقِيمُوا الصَّلاَةَ، وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ، فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ، عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ، إلاَّ بِحَقِّ الإِسْلاَمِ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللهِ». متفقٌ عَلَيهِ

উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “লোকদের বিরুদ্ধে আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত (সশস্ত্র) সংগ্রাম চালাবার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেবে যে, ’আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (ﷺ) আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ’ এবং নামায প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত আদায় করবে। সুতরাং যখনই তারা সেসব বাস্তবায়ন করবে, তখনই তারা ইসলামী হক ব্যতিরেকে নিজেদের জান-মাল আমার নিকট হতে বাঁচিয়ে নিবে। আর তাদের (আভ্যন্তরীণ বিষয়ের) হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে থাকবে।” (বুখারী ও মুসলিম) [১]

সহীহুল বুখারী ২৫, মুসলিম ২২

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/১০৮৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মানুষ যখন আল্লাহ ছাড়া সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য দেয়, নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং যাকাত আদায় করে, তখন তাদের জান-মাল নিরাপদ হয়, ইসলামের হক ছাড়া। আর তাদের অন্তরের হিসাব আল্লাহর ওপর। হাদিসটি প্রকাশ্য আমল ও অন্তরের হিসাব—দুই বিষয়কে আলাদা করে বুঝায়। ইসলামী সমাজে প্রকাশ্য পরিচয়ের মধ্যে শাহাদাত, সালাত ও যাকাত বড় স্থান রাখে। এখানে কারও অন্তরের গোপন অবস্থা নিয়ে মানুষের সিদ্ধান্ত দেওয়ার কথা বলা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, প্রকাশ্য আনুগত্য গ্রহণ করা হবে এবং চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর কাছে থাকবে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শাহাদাত, নামাজ ও যাকাত ইসলামী পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।
  • মানুষের অন্তরের চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে।
  • প্রকাশ্য আমলের ভিত্তিতে জান-মালের নিরাপত্তার কথা এসেছে।
  • ইসলামের হক বা বৈধ দাবি ছাড়া অন্যায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন