১/১১. অধ্যায়ঃ
মুজাহাদাহ বা দ্বীনের জন্য এবং আত্মা, শয়তান ও দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে নিরলস চেষ্টা, টানা পরিশ্রম ও আজীবন সংগ্রাম করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা’আলা বলেন,﴿ وَٱلَّذِينَ جَٰهَدُواْ فِينَا لَنَهۡدِيَنَّهُمۡ سُبُلَنَاۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَمَعَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ٦٩ ﴾ [العنكبوت: ٦٩]অর্থাৎ “যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গেই থাকেন।” (সূরা আনকাবূত ৬৯ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴿ وَٱعۡبُدۡ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأۡتِيَكَ ٱلۡيَقِينُ ٩٩ ﴾ [الحجر: ٩٩]অর্থাৎ “আর তোমার মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর।” (সূরা হিজর ৯৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴿ وَٱذۡكُرِ ٱسۡمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلۡ إِلَيۡهِ تَبۡتِيلٗا ٨ ﴾ [المزمل: ٨]অর্থাৎ “সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর এবং একনিষ্ঠভাবে তাতে মগ্ন হও।” (সূরা মুয্যাম্মিল ৮ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴿ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ ﴾ [الزلزلة: ٧]অর্থাৎ “সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৭ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴿ وَمَا تُقَدِّمُواْ لِأَنفُسِكُم مِّنۡ خَيۡرٖ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيۡرٗا وَأَعۡظَمَ أَجۡرٗاۚ ﴾ [المزمل: ٢٠]অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের আত্মার মঙ্গলের জন্য ভাল যা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করবে তোমরা তা আল্লাহর নিকট উৎকৃষ্টতর এবং পুরস্কার হিসাবে মহত্তর পাবে।” (সূরা মুযযাম্মিল ২০ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴿ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ ﴾ [البقرة: ٢٧٣]অর্থাৎ “আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭৩ আয়াত)এ বিষয়ে সুবিদিত আয়াত অনেক রয়েছে। উক্ত মর্মের হাদীসসমূহ নিম্নরূপঃ
নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দীর্ঘ কিয়াম: ইবাদতে ধৈর্য ও আন্তরিক চেষ্টা
রিয়াদুস সালেহীন : ৯/১০৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৯/১০৫
عن ابن مسعود رضي الله عنه قال: صليت مع النبي صلى الله عليه وسلم ليلة، فأطال القيام حتى هممت بأمر سوء! قيل: وما هممت به؟قال: هممت أن أجلس وأدعه. (متفق عليه).
ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, ’আমি এক রাতে নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে নামায পড়লাম। অতঃপর তিনি দীর্ঘ কিয়াম করলেন। এমনকি শেষ পর্যন্ত আমি খারাপ কাজের ইচ্ছা করলাম।’ তাঁকে প্রশ্ন করা হল যে, ’আপনি কি ইচ্ছা করেছিলেন?’ তিনি বললেন, ’আমি ইচ্ছা করেছিলাম যে, আমি বসে যাই এবং (তাঁর অনুসরণ) ছেড়ে দিই।’[১]
সহীহুল বুখারী ১১৩৫, মুসলিম ৭৭৩, ইবনু মাজাহ ১৪১৮, ১৩৩৮, ৩৭৫৭, ৩৯২৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৯/১০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু মাসউদ (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে এক রাতের নামাজের কথা বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এত দীর্ঘ কিয়াম করলেন যে ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর মনে বসে পড়ার ইচ্ছা হলো। তিনি পরে বললেন, তিনি বসে গিয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুসরণ ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। এই বর্ণনা থেকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইবাদতের গভীর চেষ্টা বোঝা যায়। এখানে কারও ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার শিক্ষা নয়; বরং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ব্যক্তিগত ইবাদতের শক্তি ও আল্লাহর সামনে দীর্ঘ সময় দাঁড়ানোর ভালোবাসা প্রকাশ পায়। রাতের নামাজ, দীর্ঘ কিয়াম এবং ইবাদতে ধৈর্য—এসব এই হাদিসের প্রধান বিষয়। এটি আমাদের নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ইবাদতে নিয়মিত ও মনোযোগী হতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) রাতের নামাজে দীর্ঘ সময় দাঁড়াতেন।
- ইবাদতে ধৈর্য দরকার, তবে নিজের সামর্থ্যও খেয়াল রাখতে হয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল থেকে ইবাদতের প্রতি গভীর ভালোবাসা শেখা যায়।
