৯/১৮৩. অধ্যায়ঃ
বিশেষ বিশেষ সূরা ও আয়াত পাঠ করার উপর উৎসাহ দান
জিন ও বদ নজর থেকে আশ্রয়: সূরা ফালাক ও নাসের আমল
রিয়াদুস সলেহিন : ৭/১০২২
রিয়াদুস সলেহিনহাদিস নম্বর ৭/১০২২
وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِيِّ رضي الله عنه قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صلى الله عليه وسلم يَتَعَوَّذُ مِنَ الجَانِّ، وَعَيْنِ الإِنْسَانِ، حَتَّى نَزَلَتْ المُعَوِّذَتَانِ، فَلَمَّا نَزَلَتَا، أَخَذَ بِهِمَا وَتَرَكَ مَا سِوَاهُمَا. رواه الترمذي، وقال: (حديث حسن))
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ’রাসূলুল্লাহ (সূরা ফালাক্ব ও নাস অবতীর্ণ হবার পূর্ব পর্যন্ত নিজ ভাষাতে) জিন ও বদ নজর থেকে (আল্লাহর) আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। পরিশেষে যখন উক্ত সূরা দু’টি অবতীর্ণ হল, তখন ঐ সূরা দু’টি দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্যান্য সব পরিহার করলেন।’ (তিরমিযী হাসান)[১]
তিরমিযী ২০৫৮, নাসায়ী ৫৪৯৪, ইবনু মাজাহ ৩৫১১
রিয়াদুস সলেহিন হাদিস ৭/১০২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, সূরা ফালাক ও সূরা নাস নাযিল হওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জিন ও মানুষের বদ নজর থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। পরে যখন এই দুই সূরা নাযিল হলো, তিনি এগুলো দিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং অন্য পদ্ধতি ছেড়ে দিলেন। হাদিসটি আমাদের শেখায়, আশ্রয় চাওয়ার ক্ষেত্রে কুরআনের ভাষা সবচেয়ে সুন্দর ও নিরাপদ পথ। এখানে কোনো বাড়তি দাবি নেই; শুধু এতটুকু স্পষ্ট যে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) এই দুই সূরাকে বিশেষভাবে গ্রহণ করেছেন। তাই সূরা ফালাক ও নাসকে দৈনন্দিন দোয়া ও আমলে রাখা মুমিনের জন্য উপকারী শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিন ও বদ নজর থেকে আশ্রয় চাওয়ার জন্য কুরআনের সূরা ব্যবহার করা সুন্নাহসম্মত আমল।
- সূরা ফালাক ও নাস নাযিল হওয়ার পর নবীজি (صلى الله عليه وسلم) এগুলোকে আশ্রয়ের আমল হিসেবে গ্রহণ করেন।
- আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া ভয় বা দুর্বলতার নয়, ঈমানের প্রকাশ।
