১১/৭১. অধ্যায়ঃ

'ইশার সলাতে 'ওয়াশ্ শাম্সি ওয়াযুহা-হা-'পাঠ করা

ইমামতির সময় মুসল্লিদের কষ্ট না দিয়ে সহজ সূরা পাঠ

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৯৯৮

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ قَالَ: صَلَّى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ لِأَصْحَابِهِ الْعِشَاء، فَطَوَّلَ عَلَيْهِمْ فَانْصَرَفَ رَجُلٌ مِنَّا فَأُخْبِرَ مُعَاذُ عَنْهُ، فَقَالَ: إِنَّهُ مُنَافِقٌ، فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ الرَّجُلَ دَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِمَا قَالَ مُعَاذٌ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَتُرِيدُ أَنْ تَكُونَ فَتَّانًا يَا مُعَاذٌ؟ إِذَا أَمَمْتَ النَّاسَ فَاقْرَأْ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ»

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মুআয ইবনু জাবাল (রাঃ) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে ইশার সালাত আদায় করছিলেন। তিনি সালাত দীর্ঘ করলে আমাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি চলে গেল। মুআয (রাঃ)-কে এ সংবাদ দেওয়া হলে তিনি বললেন, সে ব্যক্তি মুনাফিক। ঐ ব্যক্তির কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে সে ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে গেল এবং মুআয (রাঃ) যা বলেছিলেন তা তাঁকে অবহিত করল। নবী (ﷺ) তাঁকে বললেন, “হে মুআয! তুমি কি (মানুষদের মধ্যে) ফিতনা সৃষ্টি করতে চাও? যখন তুমি লোকদের ইমামতি করবে তখন ওয়াশ্‌শামসি ওয়াদুহা-হা (সূরা আশ-শামস ৯১), সাব্বিহিস্‌মা রব্বিকাল আ'লা (সূরা আল আ'লা ৮৭), ওয়াল-লাইলি ইযা ইয়াখ্‌শা (সূরা আল-লাইল ৯২) এবং ইক্‌রা বিস্‌মি রব্বিকা (সূরা আল-আলাক ৯৬) পড়ে নিবে।”

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯৯৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইমামতির সময় মানুষের অবস্থা বিবেচনা করার পরিষ্কার শিক্ষা রয়েছে। মু‘আয ইবনে জাবাল (রাঃ) সাহাবিদের নিয়ে ইশার সালাত পড়াচ্ছিলেন এবং সালাত দীর্ঘ করেছিলেন। এতে একজন মুসল্লি জামাত ছেড়ে চলে যান। মু‘আয (রাঃ) খবর পেয়ে লোকটিকে মুনাফিক বলেন। কথাটি সেই ব্যক্তির কাছে পৌঁছালে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গিয়ে পুরো ঘটনা জানান। নবীজি মু‘আয (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন, তিনি কি মানুষের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করতে চান। এরপর ইমামতির সময় সূরা আশ-শামস, সূরা আল-আ‘লা, সূরা আল-লাইল এবং সূরা আল-আলাক পড়ার নির্দেশ দেন। হাদিসটি দীর্ঘ কিরাআতের কারণে চলে যাওয়া ব্যক্তিকে মুনাফিক বলে দেওয়া সমর্থন করেনি। বরং নবীজির বক্তব্য ইমামের কিরাআত সহজ ও উপযোগী রাখার দিকে ছিল। তাই জামাত পরিচালনায় সংযম, মানুষের কষ্ট বোঝা এবং তাড়াহুড়ো করে কঠিন মন্তব্য না করার শিক্ষা পাওয়া যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইমামকে জামাতের মানুষের সামর্থ্য বিবেচনা করে কিরাআত করতে হবে।
  • কারও আচরণের কারণ না জেনে তাকে মুনাফিক বলে দেওয়া ঠিক নয়।
  • ইশার জামাতে সূরা আশ-শামস, আল-আ‘লা, আল-লাইল ও আল-আলাক পড়ার নির্দেশ এসেছে।
  • দীর্ঘ কিরাআতের মাধ্যমে মানুষের জন্য ফিতনা বা কষ্ট তৈরি করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন