১১/৬১. অধ্যায়ঃ
ক্বিয়াম এবং ক্বিরাআত সংক্ষিপ্ত করা
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে কিরাআতের সুন্নাহ ও রাকাতের দৈর্ঘ্য
সুনানে নাসাঈ : ৯৮২
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৯৮২
أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي فُدَيْكٍ، عَنْ الضَّحَّاكِ بْنُ عُثْمَانَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: «مَا صَلَّيْتُ وَرَاءَ أَحَدٍ أَشْبَهَ صَلَاةً بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ فُلَانٍ - قَالَ سُلَيْمَانَ - كَانَ يُطِيلُ الرَّكْعَتَيْنِ الْأُولَيَيْنِ مِنَ الظُّهْرِ، وَيُخَفِّفُ الْأُخْرَيَيْنِ، وَيُخَفِّفُ الْعَصْرَ، وَيَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِقِصَارِ الْمُفَصَّلِ، وَيَقْرَأُ فِي الْعِشَاء بِوَسَطِ الْمُفَصَّلِ، وَيَقْرَأُ فِي الصُّبْحِ بِطُوَلِ الْمُفَصَّلِ»
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সালাতের সাথে অমুকের চেয়ে সামঞ্জস্যপূর্ণ সালাত আর কারও পশ্চাতে আদায় করিনি।সুলায়মান (রাঃ) বলেন, তিনি যুহরের প্রথম দুই রাকাত দীর্ঘ করতেন, শেষের দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত করতেন। আর আসরের সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন। আর মাগরিবের সালাতে কিসারুল মুফাস্সাল পাঠ করতেন। আর ইশার সালাতে আওসাতুল মুফাস্সাল পাঠ করতেন। আর সকালের সালাত অর্থাৎ ফজরে তিওয়ালুল মুফাস্সাল পাঠ করতেন।
[১] সূরা হুজুরাত থেকে সূরা বুরুজ পর্যন্ত তিওয়ালে মুফাস্সাল, সূরা বরূজ থেকে সূরা বায়্যিনা পর্যন্ত আওসাতে মুফাস্সাল এবং সূরা বায়্যিনা থেকে কুরআনের শেষ সূরা পর্যন্ত কিসারে মুফাস্সাল হিসাবে গণ্য হয়।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৯৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে কিরাআতের ধরন। আবু হুরায়রা (রাঃ) এমন একজন ইমামের কথা বলেছেন, যার সালাত রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের সঙ্গে খুব বেশি মিল ছিল। সুলায়মান (রহঃ) সেই সালাতের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। যুহরের প্রথম দুই রাকাত দীর্ঘ এবং শেষ দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত করা হতো। আসরের সালাতও সংক্ষিপ্তভাবে আদায় করা হতো। মাগরিবে ছোট মুফাসসাল সূরা, ইশায় মাঝারি মুফাসসাল সূরা এবং ফজরে দীর্ঘ মুফাসসাল সূরা পাঠ করা হতো। এখানে প্রতিটি সালাতে একই দৈর্ঘ্যের কিরাআত করার কথা বলা হয়নি। বরং ওয়াক্ত ও রাকাত অনুযায়ী কিরাআতের পরিমাণে পার্থক্য দেখা যায়। হাদিসটি যুহরের প্রথম দুই রাকাত, মাগরিবের কিরাআত, ইশার কিরাআত এবং ফজরের দীর্ঘ কিরাআত সম্পর্কে একটি পরিষ্কার নমুনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যুহরের প্রথম দুই রাকাত শেষ দুই রাকাতের তুলনায় দীর্ঘ করা হতো।
- মাগরিব, ইশা ও ফজরে কিরাআতের দৈর্ঘ্য এক রকম ছিল না।
- ফজরের সালাতে দীর্ঘ মুফাসসাল সূরা পাঠের একটি আমল এই হাদিসে পাওয়া যায়।
