১১/৩৭. অধ্যায়ঃ
কুরআন সম্বন্ধীয় বিবিধ রিওয়ায়াত
সাত হরফে কুরআন: কিরাআতের ভিন্নতা নিয়ে হাদিসের শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৯৪১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৯৪১
أَخْبَرَنِي يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسٍ، عَنْ أُبَيٍّ، قَالَ: مَا حَاكَ فِي صَدْرِي مُنْذُ أَسْلَمْتُ إِلَّا أَنِّي قَرَأْتُ آيَةً وَقَرَأَهَا آخَرُ غَيْرَ قِرَاءَتِي، فَقُلْتُ: أَقْرَأَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَقَالَ الْآخَرُ: أَقْرَأَنِيهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهُ أَقْرَأْتَنِي آيَةَ كَذَا وَكَذَا. قَالَ: «نَعَمْ». وَقَالَ الْآخَرُ: أَلَمْ تُقْرِئْنِي آيَةَ كَذَا وَكَذَا؟ قَالَ: " نَعَمْ إِنَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَائِيلَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ أَتَيَانِي، فَقَعَدَ جِبْرِيلَ عَنْ يَمِينِي وَمِيكَائِيلَ عَنْ يَسَارِي، فَقَالَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ: اقْرَأِ الْقُرْآنَ عَلَى حَرْفٍ. قَالَ مِيكَائِيلُ: اسْتَزِدْهُ اسْتَزِدْهُ حَتَّى بَلَغَ سَبْعَةَ أَحْرُفٍ فَكُلُّ حَرْفٍ شَافٍ كَافٍ "
উবাই (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমার অন্তরে কোন প্রকার সন্দেহ উপস্থিত হয়নি। কিন্তু আমি একটি আয়াত পাঠ করলাম, আর তা অন্যজন আমার কিরাআতের উল্টোটা পাঠ করল। আমি বললাম, আমাকে এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিখিয়েছেন। ঐ ব্যক্তিও বলল, আমাকেও এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শিখিয়েছেন। তারপর আমি নবী (ﷺ)-এর খিদমতে হাজির হয়ে বললাম, হে আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে অমুক অমুক আয়াত শিখাননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। অন্য লোকটিও বললো, আপনি আমাকে অমুক অমুক আয়াত শিখাননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ।জিবরীল (আঃ) ও মীকাঈল (আঃ) আমার নিকট এসে জিবরীল (আঃ) আমার ডান পাশে আর মীকাঈল (আঃ) আমার বাম পাশে বসলেন। অতঃপর জিবরীল (আঃ) বললেন, আপনি কুরআন এক উচ্চারণে পাঠ করুন আর মীকাঈল (আঃ) বললেন, তা আরও বাড়িয়ে দিন, তা আরও বাড়িয়ে দিন। এরূপে তা সাত উচ্চারণে পৌঁছলো। আর প্রতিটি উচ্চারণই রোগ মুক্তি এবং উদ্দেশ্য অনুধাবনে যথেষ্ট।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরআনের কিরাআতের ভিন্নতা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলা হয়েছে। উবাই (রাঃ) একটি আয়াত যেভাবে শিখেছিলেন, অন্য একজন সেটি ভিন্নভাবে পড়েন। দুজনই জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁদের এভাবে শিখিয়েছেন। বিষয়টি সরাসরি নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে নেওয়া হলে তিনি উভয়ের কথাই সত্য বলে নিশ্চিত করেন। এরপর তিনি জানান, জিবরীল (আঃ) প্রথমে এক হরফে কুরআন পড়তে বলেন এবং মীকাঈল (আঃ) আরও বাড়ানোর কথা বলেন। এভাবে সাত হরফে পৌঁছে। তাই এই বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো, অনুমোদিত কিরাআতের পার্থক্য দেখলেই তাড়াহুড়া করে ভুল বলা ঠিক নয়। সন্দেহ হলে জ্ঞানী ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছে যাচাই করা দরকার। হাদিসে প্রতিটি হরফকে আরোগ্যদায়ক ও উদ্দেশ্য বোঝার জন্য যথেষ্ট বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিরাআতের ভিন্নতা দেখলে যাচাই না করে কাউকে ভুল বলা উচিত নয়।
- দ্বিধা হলে নির্ভরযোগ্য জ্ঞানসূত্রে ফিরে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করতে হয়।
- কুরআন সাত হরফে পাঠের অনুমতির কথা এই হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
- অনুমোদিত প্রতিটি পাঠকে হাদিসে যথেষ্ট ও আরোগ্যদায়ক বলা হয়েছে।
