১১/৩০. অধ্যায়ঃ
আল্লাহ তা'আলার বাণী: “যখন কুরআন পাঠ করা হয় তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শুনবে এবং চুপ থাকবে। আশা করা যায় এতে তোমরা রহমাতপ্রাপ্ত হবে"- (সূরাহ্ আল আ'রাফ ৭ : ২০৪)-এর ব্যাখ্যা
জামাতে নামাজে ইমামের অনুসরণ কীভাবে করবেন
সুনানে আন-নাসায়ী : ৯২১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৯২১
أَخْبَرَنَا الْجَارُودُ بْنُ مُعَاذٍ التِّرْمِذِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنُ عَجْلَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا: اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ "---[حكم الألباني] حسن صحيح
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ইমাম নিযুক্ত করা হয়েছে তাঁর অনুসরণ করার জন্যে। অতএব, যখন তিনি তাকবির বলেন তখন তোমরাও তাকবির বল, আর যখন তিনি কুরআন পড়ে তখন তোমরা চুপ থাকবে, আর যখন তিনি বলেন, “সামি’ আল্লাহু লিমান হামিদাহ” তখন তোমরা বলবে “রব্বানা- লাকাল হাম্দ”।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো জামাতে নামাজে ইমামের অনুসরণ করা। ইমামকে সামনে রাখা হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা তাঁর কাজের সঙ্গে মিল রেখে সালাত আদায় করেন। তাই ইমাম তাকবির বলার পর মুসল্লিরা তাকবির বলবেন। তিনি কুরআন পড়লে মনোযোগ দিয়ে চুপ থাকবেন। আবার ইমাম যখন ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’ বলেন, তখন মুসল্লিরা ‘রব্বানা লাকাল হাম্দ’ বলবেন। এখানে জামাতে নামাজের শৃঙ্খলা খুব পরিষ্কারভাবে বোঝানো হয়েছে। নিজের মতো আগে-পরে না গিয়ে ইমামের ধাপ অনুসরণ করাই হাদিসের সরাসরি নির্দেশ। এই নিয়ম মুসল্লিদের একই ছন্দে সালাত আদায় করতে সাহায্য করে। ফলে জামাতে তাকবির, কিরাআত শোনা এবং হামদ বলার প্রতিটি অংশ ঠিক সময়ে সম্পন্ন হয়। এভাবে ইমাম ও মুক্তাদির কাজের ক্রম স্পষ্ট থাকে এবং জামাত এলোমেলো হয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জামাতে সালাতে ইমামের কাজ অনুসরণ করতে হবে।
- ইমাম তাকবির বলার পর মুসল্লিরা তাকবির বলবেন।
- ইমাম কুরআন পড়লে মনোযোগ দিয়ে নীরব থাকতে হবে।
- ইমামের ‘সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ’-এর জবাবে ‘রব্বানা লাকাল হাম্দ’ বলতে হবে।
