১১/২৯. অধ্যায়ঃ
যে সলাতে ইমাম উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠ করে সে সলাতে ইমামের পেছনে সূরাহ্ ফাতিহাহ্ পাঠ করা
ইমামের স্বরব কিরাআতের সময় শুধু সূরা ফাতিহা পড়ার নির্দেশ
সুনানে আন-নাসায়ী : ৯২০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৯২০
أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، عَنْ صَدَقَةَ، عَنْ زَيْدِ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ حَرَامِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ نَافِعِ بْنِ مَحْمُودِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْضَ الصَّلَوَاتِ الَّتِي يُجْهَرُ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ: «لَا يَقْرَأَنَّ أَحَدٌ مِنْكُمْ إِذَا جَهَرْتُ بِالْقِرَاءَةِ إِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ»
উবাদাহ ইবন সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের নিয়ে এমন এক সালাত আদায় করলেন যাতে স্বরবে কিরাআত পাঠ করা হয়। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন, আমি যখন স্বরবে কিরাআত পাঠ করি তখন তোমাদের কেউ যেন সূরা ফাতিহা ছাড়া আর কিছু না পড়ে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৯২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় স্বরব সালাতে ইমামের পেছনে মুকতাদির কিরাআত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের নিয়ে এমন একটি সালাত আদায় করেন, যেখানে উচ্চস্বরে কিরাআত করা হয়। সালাতের পর তিনি নির্দেশ দেন, যখন তিনি জোরে কিরাআত করেন, তখন উপস্থিত কেউ যেন উম্মুল কুরআন অর্থাৎ সূরা ফাতিহা ছাড়া অন্য কিছু না পড়ে। এই বর্ণনায় সূরা ফাতিহাকে ব্যতিক্রম হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্দেশটি সম্পূর্ণ নীরব থাকার ভাষায় নয়; বরং ফাতিহা ছাড়া অন্য কিরাআত না করার ভাষায় এসেছে। হাদিসটি ইমামের পাঠে বাধা তৈরি না করা এবং একই সঙ্গে সূরা ফাতিহার বিশেষ অবস্থান—দুই বিষয়ই সামনে আনে। তবে কোন সময়ে বা কতটা আওয়াজে ফাতিহা পড়তে হবে, সে বিস্তারিত এই বর্ণনায় দেওয়া হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্বরব কিরাআতের সময় সূরা ফাতিহাকে বিশেষ ব্যতিক্রম করা হয়েছে।
- ফাতিহা ছাড়া অন্য পাঠ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে।
- মুকতাদির পাঠ যেন ইমামের কিরাআতে বাধা না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার।
- হাদিসে না থাকা পাঠের সময় বা আওয়াজের বিস্তারিত নিজের থেকে যোগ করা উচিত নয়।
