১০/৫০. অধ্যায়ঃ
সলাতের আযান দিলে তার হিফাযাত করা
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হিফাজত ও মসজিদে হাঁটার ফজিলত
সুনানে আন-নাসায়ী : ৮৪৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৮৪৯
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ الْمَسْعُودِيِّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْأَقْمَرِ، عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: «مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ غَدًا مُسْلِمًا فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلَاءِ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ، فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ شَرَعَ لِنَبِيِّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُنَنَ الْهُدَى وَإِنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الْهُدَى، وَإِنِّي لَا أَحْسَبُ مِنْكُمْ أَحَدًا إِلَّا لَهُ مَسْجِدٌ يُصَلِّي فِيهِ فِي بَيْتِهِ، فَلَوْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ وَتَرَكْتُمْ مَسَاجِدَكُمْ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ لَضَلَلْتُمْ، وَمَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ الْوُضُوءَ، ثُمَّ يَمْشِي إِلَى صَلَاةٍ إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ يَخْطُوهَا حَسَنَةً أَوْ يَرْفَعُ لَهُ بِهَا دَرَجَةً أَوْ يُكَفِّرُ عَنْهُ بِهَا خَطِيئَةً، وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا نُقَارِبُ بَيْنَ الْخُطَا وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنْهَا إِلَّا مُنَافِقٌ مَعْلُومٌ نِفَاقُهُ، وَلَقَدْ رَأَيْتُ الرَّجُلَ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ»
আবদুল্লাহ ইব্ন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আছে যে, তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি আগামীকাল আল্লাহর সঙ্গে একজন মুসলিম হিসেবে দেখা করার আশা রাখে সে যেন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হিফাজত করে, যখন তার আজান দেয়া হয়। আল্লাহ তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে হিদায়াতের নিয়মাবলী বর্ণনা করেছেন, আর ঐগুলো হিদায়াতের নিয়মের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি ধারণা করি, তোমাদের প্রত্যেকের ঘরে একটা সালাতের স্থান রয়েছে। অতএব, যদি তোমরা তোমাদের ঘরে সালাত আদায় কর আর তোমাদের মসজিদ পরিত্যাগ কর তাহলে তোমরা তোমাদের নবী (ﷺ)-এর তরিকা ছেড়ে দিলে। আর যদি তোমরা নবী (ﷺ)-এর তরীকাই ছেড়ে দিলে তাহলে তোমরা বিপথগামী হলে। আর কোন মুসলিম এমন নেই যে, উত্তমরূপে ওজু করে, পরে সে সালাতের জন্য পায়ে হেঁটে যায় কিন্তু আল্লাহ তার প্রত্যেক পদক্ষেপে একটি নেকি লেখেন না, অথবা তার জন্য তার মর্যাদা উন্নত করে দেন না, অথবা তদ্বারা তার একটি পাপের কাফ্ফারা করেন না। আমি দেখেছি আমরা সবসময় কাছাকাছি পা ফেলে চলতাম আর তা থেকে বিরত থাকে না কেউ সেই মুনাফিক ছাড়া যার নিফাক প্রকাশ্য। পক্ষান্তরে আমি দেখেছি, কোন ব্যক্তি দুই ব্যক্তির কাঁধে ভর করে চলত। অবশেষে তাকে দাঁড় করানো হত কাতারে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আযান দেওয়া স্থানে আদায় করার প্রতি গভীর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মুসলিম অবস্থায় আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন এই সালাতগুলোর হিফাজত করে। এগুলো হিদায়াতের পথের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু ঘরে সালাত আদায় করে মসজিদ ছেড়ে দেওয়াকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর পথ ছেড়ে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, সুন্দরভাবে ওযু করে পায়ে হেঁটে সালাতে গেলে প্রতিটি পদক্ষেপে নেকি লেখা, মর্যাদা বাড়ানো বা পাপ মোচনের কথা রয়েছে। সাহাবিদের জামাআতের প্রতি আগ্রহ এত ছিল যে অসুস্থ ব্যক্তিকেও দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে কাতারে আনা হতো। তাই মূল বিষয় পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, মসজিদে জামাআত এবং আন্তরিক চেষ্টা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযান দেওয়া হলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের হিফাজত করতে বলা হয়েছে।
- মসজিদের জামাআতকে নবী صلى الله عليه وسلم-এর হিদায়াতের পথের অংশ বলা হয়েছে।
- ওযু করে মসজিদে হাঁটার প্রতিটি পদক্ষেপে নেকি, মর্যাদা বা পাপ মোচনের কথা এসেছে।
- অসুস্থতার মধ্যেও সাহাবিরা সহায়তা নিয়ে কাতারে উপস্থিত হতেন।
