১০/৩৫. অধ্যায়ঃ
ইমামের সলাত সংক্ষেপ করা
শিশুর কান্না শুনে সালাত সংক্ষিপ্ত করার হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ৮২৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৮২৫
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنِّي لَأَقُومُ فِي الصَّلَاةِ فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ فَأُوجِزُ فِي صَلَاتِي كَرَاهِيَةَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمِّهِ»
আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, আমি সালাতে দাঁড়ালে শিশুর কান্না শুনতে পাই। তখন তার মায়ের উপর কষ্টকর হয় মনে করে আমি সালাত সংক্ষেপ করি।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৮২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সালাতে মানুষের অবস্থা বুঝে সহজ করা। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তিনি সালাতে দাঁড়ানোর পর কোনো শিশুর কান্না শুনলে সালাত সংক্ষিপ্ত করতেন। কারণ শিশুর কান্না শুনে তার মা কষ্ট ও অস্থিরতা অনুভব করতে পারেন। এখানে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দয়া এবং জামাআতের মুসল্লিদের প্রতি খেয়াল রাখার বিষয়টি স্পষ্ট। তিনি শিশুর কান্নাকে বিরক্তির কারণ হিসেবে দেখেননি; বরং মায়ের সম্ভাব্য কষ্টের কথা ভেবেছেন। একই সঙ্গে তিনি সালাত ছেড়ে দেননি বা নিয়ম নষ্ট করেননি, বরং কিরাআত ও সালাতের সময় কমিয়ে পূর্ণভাবে শেষ করেছেন। এই বর্ণনা ইমামকে শেখায় যে, জামাআতে শিশু ও মা উপস্থিত থাকলে তাঁদের বাস্তব অবস্থাও বিবেচনায় রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শিশুর কান্না শুনে তার মায়ের কষ্টের কথা ভাবা দয়া ও সহমর্মিতার পরিচয়।
- ইমাম মুসল্লিদের বাস্তব অবস্থা বুঝে সালাত সংক্ষিপ্ত করতে পারেন।
- সালাত সংক্ষিপ্ত করা হলেও তা নিয়মমতো পূর্ণ করতে হয়।
- শিশুসহ মসজিদে আসা মায়ের অসুবিধাকে অবহেলা করা উচিত নয়।
