৭/৩৬. অধ্যায়ঃ
মুয়াযযিন যখন "হাইয়্যা 'আলাস্ সলা-হ্, হাইয়্যা 'আলাল ফালা-হ” বলবেন, শ্রোতাগণ কি বলবে?
হাইয়া আলাস সালাহ ও হাইয়া আলাল ফালাহর জবাব কী
সুনানে নাসাঈ : ৬৭৭
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৬৭৭
أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ الْحَسَنِ الْمِقْسَمِيُّ قَالَا: حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ قَالَ: ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، أَنَّ عِيسَى بْنَ عُمَرَ أَخْبَرَهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ وَقَّاصٍ قَالَ: إِنِّي عِنْدَ مُعَاوِيَةَ إِذْ أَذَّنَ مُؤَذِّنُهُ، فَقَالَ مُعَاوِيَةُ كَمَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ حَتَّى إِذَا قَالَ: حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ. قَالَ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ». فَلَمَّا قَالَ: حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ. قَالَ: «لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ». وَقَالَ بَعْدَ ذَلِكَ مَا قَالَ الْمُؤَذِّنُ، ثُمَّ قَالَ: «سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مِثْلَ ذَلِكَ»
আলকামা ইব্ন ওয়াক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মুয়াবিয়া (রাঃ)-এর নিকটে ছিলাম। যখন তাঁর মুয়াজ্জিন আজান দিলেন তখন মুয়াবিয়া সে বাক্যগুলো বললেন, যেগুলো মুয়াজ্জিন বলছিলেন। মুয়াজ্জিন যখন বললেন, “হাইয়া আলাস সালাহ”, তখন তিনি বললেন, “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”।মুয়াজ্জিন যখন “হাইয়া আলাল ফালাহ” বললেন, তখন তিনি বললেন, "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। তারপর মুয়াজ্জিন যে বাক্য বললেন, তিনিও সে বাক্য বললেন। তারপর বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এরূপ বলতে শুনেছি।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৬৭৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আজানের জবাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিত এসেছে। মুয়াবিয়া (রাঃ) মুয়াজ্জিনের সাধারণ বাক্যগুলোর জবাবে একই বাক্য বলছিলেন। কিন্তু মুয়াজ্জিন যখন “হাইয়া আলাস সালাহ” বললেন, তিনি বললেন, “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।” “হাইয়া আলাল ফালাহ” বলার পরও তিনি একই জবাব দিলেন। এরপর আজানের পরের সাধারণ বাক্যগুলো আবার মুয়াজ্জিনের মতো বললেন। শেষে তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে এভাবেই বলতে শুনেছেন। তাই আজানের জবাবের সাধারণ নিয়মের মধ্যে এই দুই আহ্বানের জন্য আলাদা উত্তর রয়েছে। এই বাক্যের অর্থ হলো, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। সালাত ও সফলতার আহ্বানে সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাও আল্লাহর দান—এই অনুভূতি এতে প্রকাশ পায়। হাদিসের পাঠ অনুযায়ী, বাক্যগুলো ঠিকভাবে শেখা ও সময়মতো বলা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজানের সাধারণ বাক্যে মুয়াজ্জিনের মতো বলা হয়।
- ‘হাইয়া আলাস সালাহ’-এর জবাবে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলা হয়।
- ‘হাইয়া আলাল ফালাহ’-এর জবাবও একই।
- এই জবাব আল্লাহর সাহায্য ও সামর্থ্যের ওপর নির্ভরতা প্রকাশ করে।
