৭/৩২. অধ্যায়ঃ
এমন ব্যক্তিকে মুয়াযযিন বানানো, যে আযানের পারিশ্রমিক নেয় না
ইমামের দায়িত্ব: দুর্বল মুসল্লির প্রতি সহজতা ও মুয়াজ্জিন নির্বাচন
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৭২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৭২
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَفَّانُ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدٌ الْجُرَيْرِيُّ، عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ، عَنْ مُطَرِّفٍ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اجْعَلْنِي إِمَامَ قَوْمِي. فَقَالَ: «أَنْتَ إِمَامُهُمْ، وَاقْتَدِ بِأَضْعَفِهِمْ، وَاتَّخِذْ مُؤَذِّنًا لَا يَأْخُذُ عَلَى أَذَانِهِ أَجْرًا»
উসমান ইব্ন আবুল আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে আমার ক্বওমের ইমাম বানিয়ে দিন। তিনি বললেন, (ঠিক আছে যাও) তুমি তাদের ইমাম। তবে তাদের দুর্বল লোকেদের প্রতি লক্ষ্য রাখবে (সালাত দীর্ঘ করায় তাদের যেন কষ্ট না হয়) এবং যে ব্যক্তি আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেয় না তাকে মুয়ায্যিন নিযুক্ত করে নিবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইমামতি শুধু সম্মান নয়, বরং দায়িত্ব—এ কথা স্পষ্ট হয়েছে। উসমান ইবন আবিল আস (রাঃ) নিজের কওমের ইমাম হওয়ার আবেদন করলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে ইমাম নিযুক্ত করেন। সঙ্গে দুটি নির্দেশ দেন। প্রথমত, জামাতে দুর্বল মানুষদের অবস্থা বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ সালাত এত দীর্ঘ করা যাবে না, যাতে দুর্বল, অসুস্থ বা কষ্টে থাকা মানুষের ওপর চাপ পড়ে। দ্বিতীয়ত, এমন একজন মুয়াজ্জিন রাখতে বলা হয়েছে, যিনি আজানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেন না। হাদিসের মূল বার্তা হলো ধর্মীয় নেতৃত্বে মানুষের সামর্থ্য ও স্বস্তির দিকে নজর রাখা। ইমামের ব্যক্তিগত পছন্দের চেয়ে জামাতের দুর্বল সদস্যের অবস্থা বেশি গুরুত্ব পায়। তবে মুয়াজ্জিনের পারিশ্রমিক নিয়ে সব যুগের সব পরিস্থিতির বিস্তারিত বিধান এই এক বর্ণনায় নেই। তাই এখানে শুধু নবী صلى الله عليه وسلم-এর দেওয়া নির্দিষ্ট নির্দেশটিই তুলে ধরা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামকে দুর্বল ও কষ্টে থাকা মুসল্লির অবস্থা বিবেচনা করতে হবে।
- জামাতের সালাত অযথা দীর্ঘ করা উচিত নয়।
- ধর্মীয় নেতৃত্বে মানুষের সামর্থ্যের প্রতি দয়া জরুরি।
- এই বর্ণনায় বিনা পারিশ্রমিকের মুয়াজ্জিন নির্বাচন করতে বলা হয়েছে।
