৭/৩১. অধ্যায়ঃ
আযানের জন্যে লটারী করা
আজান ও প্রথম কাতারের ফজিলত: ফজর-ইশার জামাতের গুরুত্ব
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৭১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৭১
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الْأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّا أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لَاسْتَهَمُوا عَلَيْهِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لَاسْتَبَقُوا إِلَيْهِ، وَلَوْ عَلِمُوا مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا»
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: মানুষ যদি জানত যে, আজান দেয়া এবং সালাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কি মর্যাদা রয়েছে, তবে তা পাবার জন্যে লটারি ছাড়া উপায় না থাকলে তারা এর জন্যে লটারি করত। আর তারা যদি জানত যে, দ্বিপ্রহরের (যুহর ও জুমুআহ) সালাতের প্রথম সময়ে গমনে কি রয়েছে তবে তার দিকে তাড়াতাড়ি ধাবিত হত। আর তারা যদি জানত ‘ইশা ও ফজরের সালাতে কি রয়েছে তা হলে উভয় সালাতের জন্যে অবশ্যই হামাগুড়ি দিয়ে হলেও হাজির হত।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কয়েকটি বড় আমলের মর্যাদা একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমটি হলো আজান দেওয়া, দ্বিতীয়টি সালাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানো। মানুষ যদি এ দুটির মর্যাদা পুরোপুরি জানত এবং লটারি ছাড়া সুযোগ ভাগ করার উপায় না থাকত, তাহলে তারা লটারি করত। এরপর দ্বিপ্রহরের সালাতে আগে যাওয়ার গুরুত্ব বলা হয়েছে। মানুষ এর মর্যাদা জানলে দ্রুত সেখানে পৌঁছানোর চেষ্টা করত। শেষে ইশা ও ফজরের সালাতের কথা এসেছে। এ দুই সালাতের মর্যাদা জানা থাকলে মানুষ হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হতো—এভাবে প্রবল আগ্রহ বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি মুসল্লিকে অলসতা কাটিয়ে আজান, প্রথম কাতার এবং জামাতে সময়মতো উপস্থিত হওয়ার দিকে উৎসাহ দেয়। তবে এতে নির্দিষ্ট সওয়াবের সংখ্যা বলা হয়নি; তাই ব্যাখ্যায় নিজের পক্ষ থেকে সংখ্যা বা নিশ্চিত পুরস্কার যোগ করা উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজান দেওয়া ও প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর বড় মর্যাদা আছে।
- সালাতে আগে পৌঁছানোর জন্য প্রতিযোগিতামূলক আগ্রহ থাকা ভালো।
- ফজর ও ইশার জামাত বিশেষ যত্নের দাবি রাখে।
- হাদিসে না থাকা নির্দিষ্ট সওয়াবের সংখ্যা যোগ করা উচিত নয়।
