৭/২৫. অধ্যায়ঃ
রাখালের আযান দেয়া প্রসঙ্গে
আজানের জবাব দেওয়ার সুন্নাহ: সফরের রাখালের ঘটনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৬৫
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৬৫
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَبِيعَةَ: أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، فَسَمِعَ صَوْتَ رَجُلٍ يُؤَذِّنُ فقال مثل قوله ثم قال إِنَّ هَذَا لَرَاعِى غَنَمٍ أَوْ عَازِبٌ عَنْ أَهْلِهِ فنظروا فإذا هو راعي غنم
আবদুল্লাহ ইব্ন রুবায়্যি’আ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে একবার সফরে ছিলেন। তিনি (ﷺ) এক ব্যক্তির আজানের শব্দ শুনতে পেলেন। নিয়মানুযায়ী তিনি জবাবে মুয়াযযিনের অনুরূপ বাক্য বললেন, তারপর বললেন যে, এ লোক কোন রাখাল বা পরিবার হতে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি হবে। এরপর তাঁরা লক্ষ্য করে দেখলেন যে, সে একজন রাখাল।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের পথে আজান শোনার একটি সহজ কিন্তু অর্থপূর্ণ ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একজন ব্যক্তির আজানের শব্দ শুনে মুয়াজ্জিনের মতো একই বাক্য বলেন। এরপর তিনি বলেন, লোকটি সম্ভবত একজন রাখাল অথবা পরিবার থেকে দূরে থাকা ব্যক্তি। পরে দেখা গেল, তিনি সত্যিই একজন রাখাল। মূল শিক্ষা হলো, শহর বা বড় জামাতের বাইরে হলেও আজান শোনা গেলে তার জবাব দেওয়া হয়। একজন রাখাল নির্জন এলাকায় নিজের সালাতের সময় আজান দিচ্ছেন—এ দৃশ্য ইবাদতের প্রতি তাঁর যত্ন দেখায়। হাদিসটি আরও শেখায়, সফরেও আজানের প্রতি মনোযোগ রাখা উচিত। তবে বর্ণনায় তাঁর নিয়ত, মর্যাদা বা ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অতিরিক্ত কিছু বলা হয়নি। তাই ব্যাখ্যায় শুধু এতটুকুই বলা নিরাপদ যে নবী صلى الله عليه وسلم আজানের বাক্যের জবাব দিয়েছিলেন এবং ব্যক্তিটির অবস্থা সম্পর্কে একটি সঠিক অনুমান করেছিলেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরেও আজান শুনলে তার জবাব দেওয়া নববী আমল।
- একাকী বা দূর এলাকায় থাকা ব্যক্তিও সালাতের জন্য আজান দিতে পারে।
- রাখালের আজান ইবাদতের প্রতি যত্নের উদাহরণ।
- হাদিসে যতটুকু আছে, তার বাইরে ব্যক্তিটির বিষয়ে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়।
