৭/১১. অধ্যায়ঃ
সলাতের ওয়াক্তের আগে আযান দেয়া
ফজরের আযানের সময়: সুবহে কাজিব ও সুবহে সাদিকের পার্থক্য
সুনানে আন-নাসায়ী : ৬৪১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৬৪১
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَنْبَأَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ بِلَالًا يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ لِيُوقِظَ نَائِمَكُمْ وَلِيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ، وَلَيْسَ أَنْ يَقُولَ هَكَذَا» يَعْنِي: فِي الصُّبْحِ
আবদুল্লাহ ইব্ন মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) হতে বর্ণিত। বিলাল রাতে তোমাদের নিদ্রিত লোকদের জাগানোর জন্যে এবং সালাতরত লোকদের ফিরিয়ে আনার জন্যে আযান দেন। এ রকম হলে (সুবহে কাজিবের প্রকাশে) ফজর হয় না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৬৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ফজরের আযানের সময় এবং সত্য ভোর চেনা। নবী (صلى الله عليه وسلم) জানিয়েছেন, বিলাল (রাঃ) রাত থাকতেই আযান দিতেন। সেই আযানের উদ্দেশ্য ছিল ঘুমিয়ে থাকা মানুষকে জাগানো এবং রাতের সালাতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিকে বিশ্রাম বা প্রস্তুতির দিকে ফিরিয়ে আনা। তাই রাতের এই আযান শুনেই ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছে মনে করা ঠিক নয়। হাদিসে স্পষ্ট করা হয়েছে, আকাশে যে ধরনের আলো দেখা গেলেও সত্য ভোর হয় না, সেটি ফজরের শুরু নয়। অর্থাৎ ফজরের নামাজের সময় নির্ধারণে সুবহে সাদিক গুরুত্বপূর্ণ। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, ইবাদতের সময় শুধু অনুমান বা প্রথম আযানের ওপর নির্ভর না করে সঠিক লক্ষণ বুঝতে হবে। বিশেষ করে সাহরি, ফজরের আযান ও ফজরের নামাজের সময় নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতে দেওয়া প্রথম আযান সবসময় ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার ঘোষণা নয়।
- প্রথম আযান ঘুমন্ত মানুষকে জাগানো ও রাতের ইবাদতকারীকে প্রস্তুত করার কাজে আসে।
- ফজরের সময় নির্ধারণে সত্য ভোর বা সুবহে সাদিকের লক্ষণ বুঝতে হবে।
