৬/৪৩. অধ্যায়ঃ
এর (মুসাফিরের যুহর ও 'আস্ত্রের সলাতের) বিবরণ প্রসঙ্গে
জরুরি কাজের সফরে দুই ওয়াক্ত সালাত একত্রে আদায়ের হাদিস
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫৮৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৫৮৮
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَزِيعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ قَالَ: حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ قَارَوَنْدَا قَالَ: سَأَلْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ صَلَاةِ أَبِيهِ فِي السَّفَرِ، وَسَأَلْنَاهُ هَلْ كَانَ يَجْمَعُ بَيْنَ شَيْءٍ مِنْ صَلَاتِهِ فِي سَفَرِهِ؟ فَذَكَرَ أَنَّ صَفِيَّةَ بِنْتَ أَبِي عُبَيْدٍ كَانَتْ تَحْتَهُ، فَكَتَبَتْ إِلَيْهِ وَهُوَ فِي زَرَّاعَةٍ لَهُ: أَنِّي فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ أَيَّامِ الدُّنْيَا، وَأَوَّلِ يَوْمٍ مِنَ الْآخِرَةِ، فَرَكِبَ فَأَسْرَعَ السَّيْرَ إِلَيْهَا حَتَّى إِذَا حَانَتْ صَلَاةُ الظُّهْرِ قَالَ لَهُ الْمُؤَذِّنُ: الصَّلَاةَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ. فَلَمْ يَلْتَفِتْ حَتَّى إِذَا كَانَ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ نَزَلَ فَقَالَ: أَقِمْ. فَإِذَا سَلَّمْتُ فَأَقِمْ فَصَلَّى، ثُمَّ رَكِبَ حَتَّى إِذَا غَابَتِ الشَّمْسُ قَالَ لَهُ الْمُؤَذِّنُ: الصَّلَاةَ. فَقَالَ: كَفِعْلِكَ فِي صَلَاةِ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ، ثُمَّ سَارَ حَتَّى إِذَا اشْتَبَكَتِ النُّجُومُ نَزَلَ، ثُمَّ قَالَ لِلْمُؤَذِّنِ: أَقِمْ. فَإِذَا سَلَّمْتُ فَأَقِمْ فَصَلَّى، ثُمَّ انْصَرَفَ فَالْتَفَتَ إِلَيْنَا فَقَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْأَمْرُ الَّذِي يَخَافُ فَوْتَهُ فَلْيُصَلِّ هَذِهِ الصَّلَاةَ»
কাছীর ইব্ন ক্বারাওয়ান্দা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি সালিম ইবন আব্দুল্লাহ (রহঃ)-কে তাঁর বাবার সফরের সালাত সম্পর্কে জানতে চাইলাম এবং তাঁকে প্রশ্ন করলাম, তিনি সফরে দুই ওয়াক্তের সালাতকে একসাথে আদায় করতেন কি? তখন সালিম (রহঃ) এ ঘটনা উল্লেখ করলেন যে, সাফিয়া বিনতু আবু উবাইদ (রাঃ) তাঁর (আবদুল্লাহর) স্ত্রী ছিলেন। সাফিয়া অসুস্থ হয়ে আব্দুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট চিঠি লিখলেন। তখন আব্দুল্লাহ (রাঃ) তাঁর দূরের জমিনে চাষাবাদ করছিলেন। (সাফিয়া) চিঠিতে লিখলেন যে, আমার মনে হয় আমি আমার দুনিয়ার জীবনের শেষদিন এবং আখিরাতের প্রথম দিনে উপনীত হয়েছি। সংবাদ পেয়েই তিনি অশ্বারোহণ করে দ্রুত গতিতে আসতে লাগলেন। যখন জুহরের সালাতের সময় হল মুয়াজ্জিন বলল, হে আবু আব্দুর রহমান! সালাত আদায় করুন। তিনি ভ্রুক্ষেপ না করে সম্মুখে অগ্রসর হতে লাগলেন। যখন দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময় উপনীত হলো, (অর্থাৎ জুহরের শেষ ওয়াক্ত ও আসরের প্রথম ওয়াক্ত) তখন ঘোড়া হতে নামলেন এবং বললেন, ইকামত দাও। যখন আমি সালাত শেষ করি তখন আবার ইকামত দিবে, তারপর সালাত আদায় করে আবার ঘোড়ায় চড়লেন। আবার যখন সূর্যাস্ত হয়ে গেল মুয়াজ্জিন তাঁকে বললেন, সালাত আদায় করুন। তিনি বললেন, সেরূপ আমল কর যেরূপ জুহর ও আসরের সালাতে করেছিলে। আবার পথ চললেন। তারপর যখন সমুজ্জ্বল তারকা আকাশে উদ্ভাসিত হল তখন সাওয়ারী হতে অবতরণ করে মুয়াজ্জিনকে বললেন, ইকামত বল, যখন সালাত শেষ করি তখন আবার ইকামত দিবে। এবার সালাত আদায় করে তাদের দিকে ফিরলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন তোমাদের কারো সামনে এমন কোন জটিল কাজ দেখা দিবে যা ছুটে যাওয়ার ভয় থাকবে তবে এভাবে দুই ওয়াক্তের সালাত একসঙ্গে আদায় করে নিবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৫৮৮-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: জরুরি সফর। আবদুল্লাহ ইবন উমর রাঃ তাঁর অসুস্থ স্ত্রীর সংবাদ পেয়ে দ্রুত বাড়ির দিকে রওয়ানা হন। পথে যুহরের সময় হলে মুয়াজ্জিন সালাতের কথা বললেও তিনি চলতে থাকেন। যুহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ে নেমে প্রথমে এক সালাতের ইকামত দিতে বলেন। সালাম শেষ হলে আবার ইকামত দিয়ে পরের সালাত আদায় করেন। একইভাবে সূর্যাস্তের পরও তিনি পথ চলতে থাকেন এবং আকাশে তারকা স্পষ্ট হওয়ার পর মাগরিব ও ইশা পরপর আদায় করেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর একটি নির্দেশ উল্লেখ করেন—কারও সামনে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজ উপস্থিত হলে, যা ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সে এভাবে সালাত আদায় করতে পারে। হাদিসটির ঘটনা সফর, দ্রুত যাত্রা এবং একটি গুরুতর পারিবারিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত। তাই এটিকে সাধারণ ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত সালাত বিলম্ব করার অনুমতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কায় সফরের পথে দুই সালাত একত্র করা হয়েছিল।
- যুহর ও আসর আলাদা ইকামতে পরপর আদায় করা হয়েছিল।
- মাগরিব ও ইশাও আলাদা ইকামতে পরপর আদায় করা হয়েছিল।
- হাদিসের অনুমতিকে সাধারণ অবহেলা বা প্রতিদিনের ব্যস্ততার অজুহাত বানানো উচিত নয়।
