৬/৪০. অধ্যায়ঃ

ফাজরের পূর্ব পর্যন্ত নাফল সলাতের অনুমাত প্রদান

নফল নামাজের সময়: শেষ রাত ও সালাত থেকে বিরত থাকার মুহূর্ত

সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৫৮৪

خْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ بْنِ سُلَيْمَانَ وَأَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَا: حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ: أَيُّوبُ حَدَّثَنَا، وَقَالَ حَسَنٌ: أَخْبَرَنِي شُعْبَةُ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ طَلْقٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ قَالَ: أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَنْ أَسْلَمَ مَعَكَ؟ قَالَ: «حُرٌّ وَعَبْدٌ». قُلْتُ: هَلْ مِنْ سَاعَةٍ أَقْرَبُ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ أُخْرَى؟ قَالَ: " نَعَمْ. جَوْفُ اللَّيْلِ الْآخِرُ، فَصَلِّ مَا بَدَا لَكَ حَتَّى تُصَلِّيَ الصُّبْحَ، ثُمَّ انْتَهِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَمَا دَامَتْ - وَقَالَ أَيُّوبُ: فَمَا دَامَتْ - كَأَنَّهَا حَجَفَةٌ حَتَّى تَنْتَشِرَ، ثُمَّ صَلِّ مَا بَدَا لَكَ حَتَّى يَقُومَ الْعَمُودُ عَلَى ظِلِّهِ، ثُمَّ انْتَهِ حَتَّى تَزُولَ الشَّمْسُ؛ فَإِنَّ جَهَنَّمَ تُسْجَرُ نِصْفَ النَّهَارِ، ثُمَّ صَلِّ مَا بَدَا لَكَ حَتَّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ، ثُمَّ انْتَهِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ؛ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ وَتَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ "

আমর ইব্‌ন আবাসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার সঙ্গে আর কে ইসলাম গ্রহণ করেছে? উত্তরে বললেন, “একজন আজাদ পুরুষ আর একজন গোলাম (আবূ বকর ও বিলাল (রাঃ))।”প্রশ্ন করলাম, এমন কোন সময় আছে কি যাতে অন্য সময়ের চেয়ে আল্লাহ তা‘আলার বেশি নৈকট্য লাভ করা যায়? উত্তরে বললেন, “হ্যাঁ! রাতের শেষ অংশে ফজর আদায়ের পূর্ব পর্যন্ত যা মনে চায়, পড়। তারপর সূর্যোদয় হওয়া এবং লালিমা কেটে আলোকিত হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকবে।”(রাবী) আইয়ুব বলেন, যে পর্যন্ত সূর্যকে ঢালের মতো মনে হয় এবং সূর্যের আলো ছড়িয়ে না পড়ে ততক্ষণ পর্যন্ত বিরত থাকবে। তারপর খুঁটি তার মূল ছায়ার উপর থাকা পর্যন্ত (দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত) যা মনে চায় আদায় কর। তারপর সূর্য ঢলে যাওয়া পর্যন্ত নিবৃত থাক। কেননা দ্বিপ্রহরে জাহান্নামের আগুন অধিক প্রজ্জ্বলিত করা হয়। তারপর আসর-এর সালাত আদায় করা পর্যন্ত যা মনে চায় আদায় কর। এরপর সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাক। কারণ সূর্যের অস্ত এবং উদয় উভয়ই শয়তানের দু’ শিংয়ের মাঝখান দিয়ে হয়।

সুনানে নাসাঈ হাদিস ৫৮৪-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: সালাতের সময়। এই হাদিসে রাত ও দিনের বিভিন্ন সময়ে নফল সালাত আদায় এবং বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم রাতের শেষ অংশকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সময় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ফজরের সালাত পর্যন্ত ইচ্ছামতো সালাত পড়ার কথা বলেন। এরপর সূর্য উঠতে শুরু করলে আলো ভালোভাবে ছড়িয়ে পড়া পর্যন্ত বিরত থাকতে বলা হয়েছে। সূর্য ওপরে উঠলে আবার সালাত আদায়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়, সূর্য ঢলার আগে, সালাত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূর্য ঢলে যাওয়ার পর আসর পর্যন্ত সালাত পড়া যায়। আসরের সালাতের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত আবার বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বর্ণনায় সূর্যের উদয় ও অস্তের সময় শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখান দিয়ে হওয়ার কথাও উল্লেখ রয়েছে। ফলে নফল নামাজের সময় জানতে এই হাদিসটি একটি ধারাবাহিক সময়সূচি তুলে ধরে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাতের শেষ অংশে ফজরের আগে নফল সালাত আদায়ের সুযোগ রয়েছে।
  • সূর্য ওঠার শুরু থেকে আলো ছড়িয়ে পড়া পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
  • ঠিক দ্বিপ্রহরে সূর্য ঢলার আগ পর্যন্ত বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে।
  • আসরের সালাতের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত নফল সালাত থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন