৬/১৫. অধ্যায়ঃ
মাগরিবের শেষ সময়
নামাজের ওয়াক্ত: শুরু ও শেষ সময়ের মাঝে সালাত
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫২৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৫২৩
أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، وَأَحْمَدُ بْنُ سُلَيْمَانَ وَاللَّفْظُ لَهُ قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، عَنْ بَدْرِ بْنِ عُثْمَانَ قَالَ إِمْلَاءً عَلَيَّ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَائِلٌ يَسْأَلُهُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلَاةِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ شَيْئًا، فَأَمَرَ بِلَالًا فَأَقَامَ بِالْفَجْرِ حِينَ انْشَقَّ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالظُّهْرِ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَالْقَائِلُ يَقُولُ: انْتَصَفَ النَّهَارُ وَهُوَ أَعْلَمُ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْعَصْرِ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْمَغْرِبِ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْعِشَاءِ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ، ثُمَّ أَخَّرَ الْفَجْرَ مِنَ الْغَدِ حِينَ انْصَرَفَ وَالْقَائِلُ يَقُولُ: طَلَعَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ أَخَّرَ الظُّهْرَ إِلَى قَرِيبٍ مِنْ وَقْتِ الْعَصْرِ بِالْأَمْسِ، ثُمَّ أَخَّرَ الْعَصْرَ حَتَّى انْصَرَفَ وَالْقَائِلُ يَقُولُ: احْمَرَّتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى كَانَ عِنْدَ سُقُوطِ الشَّفَقِ، ثُمَّ أَخَّرَ الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ، ثُمَّ قَالَ: «الْوَقْتُ فِيمَا بَيْنَ هَذَيْنِ»
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি কোন উত্তর না দিয়ে বিলাল (রাঃ)-কে সালাতের প্রস্তুতির জন্যে আদেশ করলেন। ফজর হলে বিলাল (রাঃ) ফজরের ইকামাত বললেন। যখন সূর্য ঢলে পড়ল তখন তিনি বিলালকে নির্দেশ দিলেন এবং তিনি যুহরের ইকামাত বললেন। কেউ বলত (এ মাত্র) দ্বিপ্রহর হয়েছে অথচ তিনি অবগত ছিলেন।পুনরায় আদেশ করলেন, অতঃপর সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে থাকতেই আসরের ইকামাত বললেন, পুনরায় আদেশ করলেন এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার পরেই মাগরিবের ইকামাত বললেন, তারপর লালিমা অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পরে ইশার সালাতের ইকামাত বললেন। পরের দিন ফজরের সালাত এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, সালাত শেষে প্রত্যাবর্তনের সময় কেউ (সন্দেহ করে) বললেন, সূর্যোদয় হয়ে গেছে। পরে যুহরের সালাতকে এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, গতকালের আসরের নিকটবর্তী হয়ে গিয়েছিল। আসরের সালাতকে এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, প্রত্যাবর্তনের সময় (সন্দিহান হয়ে) কেউ বললেন, সূর্য রক্তিম বর্ণ হয়ে গেছে।পুনরায় মাগরিবের সালাতকে এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, লালিমা অদৃশ্য হওয়ার উপক্রম হয়ে গিয়েছিল। তিনি ইশার সালাতকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরীতে আদায় করলেন। তারপর বললেন, এ দু’দিনের দু’ধরনের ওয়াক্তের মাঝখানেই সালাতের ওয়াক্ত।
[১] যোহরের সালাত সূর্য ঢলে পড়ামাত্র এত শীঘ্র আদায় করতেন যে, কেউ সূর্য দেখে মনে করতো যে, এখন ঠিক দ্বিপ্রহর। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবগত ছিলেন যে, সূর্য ঢলে গিয়েছে এবং সালাতের প্রথম ওয়াক্ত হয়েছে। [২] অর্থাৎ দ্বিতীয় দিন ফজরের সালাত এত বিলম্বে আদায় করলেন যে, সূর্যোদয় হয়েছে বলে কারো কারো সন্দেহ হয়েছিল।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৫২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জানতে চায়। নবীজি সরাসরি কথায় উত্তর না দিয়ে কাজের মাধ্যমে বিষয়টি বুঝিয়ে দেন। প্রথম দিন তিনি ফজর, যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশা তুলনামূলক শুরু সময়ে আদায় করেন। পরের দিন তিনি একই সালাতগুলো দেরিতে আদায় করেন। শেষে বলেন, এই দুই দিনের দুই ধরনের সময়ের মাঝখানেই সালাতের ওয়াক্ত। এতে বোঝা যায়, সালাতের সময় শুধু একটি মুহূর্ত নয়; বরং শুরু ও শেষের একটি সীমা আছে। তবে হাদিসটি সময়ের গুরুত্বও শেখায়। নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে নবীজি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। তাই নামাজের সময়সূচি বোঝা ও ওয়াক্তের ভেতর সালাত আদায় করা মুমিনের দায়িত্ব।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের ওয়াক্ত শুরু ও শেষ সীমার মধ্যে থাকে।
- নবীজি কাজের মাধ্যমে সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন।
- ফজর থেকে ইশা পর্যন্ত প্রতিটি সালাতের সময় আলাদা।
- নামাজের সময় জানার পর তা অবহেলা না করে আদায় করা উচিত।
