৬/৬. অধ্যায়ঃ
যুহরের সলাতের শেষ সময়
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়: জিবরীল (আঃ)-এর শেখানো সহজ নির্দেশনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৫০২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৫০২
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ جَاءَكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ، فَصَلَّى الصُّبْحَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ، وَصَلَّى الظُّهْرَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ، ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ حِينَ رَأَى الظِّلَّ مِثْلَهُ، ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَحَلَّ فِطْرُ الصَّائِمِ، ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ حِينَ ذَهَبَ شَفَقُ اللَّيْلِ , ثُمَّ جَاءَهُ الْغَدَ فَصَلَّى بِهِ الصُّبْحَ حِينَ أَسْفَرَ قَلِيلًا، ثُمَّ صَلَّى بِهِ الظُّهْرَ حِينَ كَانَ الظِّلُّ مِثْلَهُ، ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ حِينَ كَانَ الظِّلُّ مِثْلَيْهِ، ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ بِوَقْتٍ وَاحِدٍ حِينَ غَرَبَتِ الشَّمْسُ وَحَلَّ فِطْرُ الصَّائِمِ، ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ حِينَ ذَهَبَ سَاعَةٌ مِنَ اللَّيْلِ»، ثُمَّ قَالَ: «الصَّلَاةُ مَا بَيْنَ صَلَاتِكَ أَمْسِ وَصَلَاتِكَ الْيَوْمَ»
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: ইনি জিবরীল (আঃ) যিনি তোমাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দেয়ার জন্যে এসেছিলেন। তিনি ঊষা উদিত হলে ফজরের সালাত আদায় করেন। যুহরের সালাত আদায় করেন সূর্য ঢলে পড়লে, তারপর আসরের সালাত আদায় করেন যখন ছায়া তাঁর সমান দেখতে পান। অতঃপর যখন সূর্য অস্তমিত হলো, আর সায়িমের (রোজা পালনকারীর) জন্য ইফতার করা হালাল হল তখন মাগরিবের সালাত আদায় করেন। তারপর ইশার সালাত আদায় করেন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর যে লালিমা দেখা যায় তা অদৃশ্য হওয়ার পর।জিবরীল (আঃ) আবার পরেরদিন আসলেন এবং নবী (ﷺ)-কে সাথে নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন যখন কিছুটা ফর্সা হলো তখন। পরে তাঁকে নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করেন যখন ছায়া তার সমান হলো। তারপর আসরের সালাত আদায় করেন যখন ছায়া তাঁর দ্বিগুণ হলো। পরে মাগরিবের সালাত একই সময়ে পূর্বের দিনের ন্যায় আদায় করেন। সূর্য যখন অস্তমিত হল এবং সায়িমের জন্য ইফতার করা হালাল হলো। এরপর রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে গেলে ইশার সালাত আদায় করেন। পরে তিনি বলেন, আপনার আজকের সালাত এবং গতকালকের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ই হল সালাতের সময়।
[১] ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমদ, আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহঃ) -এর মতে- অস্তাচলে যে লালিমা দৃষ্ট হয় তাই ‘শফক’। ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) -এর মতে- লালিমা অস্ত যাওয়ার পর যে সাদা বর্ণ দেখা যায়, তাই শফক। এটা অদৃশ্য হলে ইশার সালাতের সময় আরম্ভ হয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৫০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময় খুব সুন্দরভাবে শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, জিবরীল (আঃ) তোমাদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। তিনি প্রথম দিনে ফজর, যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সালাত একেক সময় আদায় করেন। পরের দিন আবার কিছুটা ভিন্ন সময়ে সালাত আদায় করান। শেষে বলা হয়, গতকাল ও আজকের সালাতের মধ্যবর্তী সময়ই সালাতের সময়। এই বর্ণনায় ফজরের সময় ঊষা, যুহরের সময় সূর্য ঢলে পড়া, আসরের সময় ছায়া, মাগরিবের সময় সূর্যাস্ত এবং ইশার সময় লালিমা মিলিয়ে যাওয়া উল্লেখ আছে। তাই নামাজের সময়সূচি বুঝতে এই হাদিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল বিষয় হলো, সালাতের সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে শেখানো একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময় জিবরীল (আঃ)-এর মাধ্যমে শেখানো হয়েছে।
- প্রতিটি সালাতের শুরু ও শেষ সময়ের একটি সীমা আছে।
- ফজর, যুহর, আসর, মাগরিব ও ইশার সময় আলাদা আলাদা লক্ষণের সাথে যুক্ত।
- সালাতের সময় জানার জন্য নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেখানো পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়।
