৫/১. অধ্যায়ঃ
সলাত ফার্য হওয়া এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-এর বর্ণনাকারীদের সানাদের মতভেদ প্রসঙ্গে এবং এ ব্যাপারে তাঁদের শব্দাবলীর ভিন্নতার আলোচনা
সুনানে নাসাঈ : ৪৪৮
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৪৪৮
أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ صَعْصَعَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " بَيْنَا أَنَا عِنْدَ الْبَيْتِ بَيْنَ النَّائِمِ وَالْيَقْظَانِ إِذْ أَقْبَلَ أَحَدُ الثَّلَاثَةِ بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ، فَأُتِيتُ بِطَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ مَلْآنَ حِكْمَةً وَإِيمَانًا، فَشَقَّ مِنِ النَّحْرِ إِلَى مَرَاقِّ الْبَطْنِ، فَغَسَلَ الْقَلْبَ بِمَاءِ زَمْزَمَ، ثُمَّ مُلِئَ حِكْمَةً وَإِيمَانًا، ثُمَّ أُتِيتُ بِدَابَّةٍ دُونَ الْبَغْلِ وَفَوْقَ الْحِمَارِ، ثُمَّ انْطَلَقْتُ مَعَ جِبْرِيلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَأَتَيْنَا السَّمَاءَ الدُّنْيَا فَقِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ. قِيلَ: وَقَدْ أُرْسِلَ إِلَيْهِ؟ مَرْحَبًا بِهِ وَنِعْمَ الْمَجِيءُ جَاءَ، فَأَتَيْتُ عَلَى آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ قَالَ: مَرْحَبًا بِكَ مِنَ ابْنٍ وَنَبِيٍّ. ثُمَّ أَتَيْنَا السَّمَاءَ الثَّانِيَةَ قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ. قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ - فَمِثْلُ ذَلَكَ - فَأَتَيْتُ عَلَى يَحْيَى وَعِيسَى فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِمَا فَقَالَا: مَرْحَبًا بِكَ مِنْ أَخٍ وَنَبِيٍّ. ثُمَّ أَتَيْنَا السَّمَاءَ الثَّالِثَةَ , قِيلَ: مَنْ هَذَا؟ قَالَ: جِبْرِيلُ. قِيلَ: وَمَنْ مَعَكَ؟ قَالَ: مُحَمَّدٌ فَمِثْلُ ذَلِكَ، فَأَتَيْتُ عَلَى يُوسُفَ عَلَيْهِ السَّلَامُ , فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ , قَالَ: مَرْحَبًا بِكَ مِنْ أَخٍ وَنَبِيٍّ. ثُمَّ أَتَيْنَا السَّمَاءَ الرَّابِعَةَ - فَمِثْلُ ذَلِكَ - فَأَتَيْتُ عَلَى إِدْرِيسَ عَلَيْهِ السَّلَامُ , فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ , فَقَالَ: مَرْحَبًا بِكَ مِنْ أَخٍ وَنَبِيٍّ. ثُمَّ أَتَيْنَا السَّمَاءَ الْخَامِسَةَ - فَمِثْلُ ذَلِكَ - فَأَتَيْتُ عَلَى هَارُونَ عَلَيْهِ السَّلَامُ , فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ قَالَ: مَرْحَبًا بِكَ مِنْ أَخٍ وَنَبِيٍّ. ثُمَّ أَتَيْنَا السَّمَاءَ السَّادِسَةَ - فَمِثْلُ ذَلِكَ - ثُمَّ أَتَيْتُ عَلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ , فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ , فَقَالَ: مَرْحَبًا بِكَ مِنْ أَخٍ وَنَبِيٍّ , فَلَمَّا جَاوَزْتُهُ بَكَى , قِيلَ: مَا يُبْكِيكَ؟ قَالَ: يَا رَبِّ , هَذَا الْغُلَامُ الَّذِي بَعَثْتَهُ بَعْدِي , يَدْخُلُ مِنْ أُمَّتِهِ الْجَنَّةَ أَكْثَرُ وَأَفْضَلُ مِمَّا يَدْخُلُ مِنْ أُمَّتِي ثُمَّ أَتَيْنَا السَّمَاءَ السَّابِعَةَ - فَمِثْلُ ذَلِكَ - فَأَتَيْتُ عَلَى إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ , فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ , فَقَالَ: مَرْحَبًا بِكَ مِنِ ابْنٍ وَنَبِيٍّ , ثُمَّ رُفِعَ لِيَ الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ , فَسَأَلْتُ جِبْرِيلَ فَقَالَ: هَذَا الْبَيْتُ الْمَعْمُورُ , يُصَلِّي فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ، فَإِذَا خَرَجُوا مِنْهُ لَمْ يَعُودُوا فِيهِ آخِرَ مَا عَلَيْهِمْ، ثُمَّ رُفِعَتْ لِي سِدْرَةُ الْمُنْتَهَى فَإِذَا نَبْقُهَا مِثْلُ قِلَالِ هَجَرَ، وَإِذَا وَرَقُهَا مِثْلُ آذَانِ الْفِيَلَةِ، وَإِذَا فِي أَصْلِهَا أَرْبَعَةُ أَنْهَارٍ: نَهْرَانِ بَاطِنَانِ، وَنَهْرَانِ ظَاهِرَانِ، فَسَأَلْتُ جِبْرِيلَ فَقَالَ: أَمَّا الْبَاطِنَانِ فَفِي الْجَنَّةِ، وَأَمَّا الظَّاهِرَانِ فَالْفُرَاتُ وَالنِّيلُ. ثُمَّ فُرِضَتْ عَلَيَّ خَمْسُونَ صَلَاةً , فَأَتَيْتُ عَلَى مُوسَى فَقَالَ: مَا صَنَعْتَ؟ قُلْتُ: فُرِضَتْ عَلَيَّ خَمْسُونَ صَلَاةً. قَالَ: إِنِّي أَعْلَمُ بِالنَّاسِ مِنْكَ؛ إِنِّي عَالَجْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَشَدَّ الْمُعَالَجَةِ، وَإِنَّ أُمَّتَكَ لَنْ يُطِيقُوا ذَلِكَ، فَارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ , فَاسْأَلْهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنْكَ، فَرَجَعْتُ إِلَى رَبِّي , فَسَأَلْتُهُ أَنْ يُخَفِّفَ عَنِّي , فَجَعَلَهَا أَرْبَعِينَ، ثُمَّ رَجَعْتُ إِلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ , فَقَالَ: مَا صَنَعْتَ؟ قُلْتُ: جَعَلَهَا أَرْبَعِينَ , فَقَالَ لِي مِثْلَ مَقَالَتِهِ الْأُولَى: فَرَجَعْتُ إِلَى رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ فَجَعَلَهَا ثَلَاثِينَ، فَأَتَيْتُ عَلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ , فَأَخْبَرْتُهُ , فَقَالَ لِي مِثْلَ مَقَالَتِهِ الْأُولَى، فَرَجَعْتُ إِلَى رَبِّي , فَجَعَلَهَا عِشْرِينَ , ثُمَّ عَشَرَةً , ثُمَّ خَمْسَةً، فَأَتَيْتُ عَلَى مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَامُ , فَقَالَ لِي مِثْلَ مَقَالَتِهِ الْأُولَى , فقلتُ: إِنِّي أَسْتَحِي مِنْ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ أَنْ أَرْجِعَ إِلَيْهِ، فَنُودِيَ: أَنْ قَدْ أَمْضَيْتُ فَرِيضَتِي , وَخَفَّفْتُ عَنْ عِبَادِي , وَأَجْزِي بِالْحَسَنَةِ عَشْرَ أَمْثَالِهَا "
মালিক ইব্ন সা‘সা‘আ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন যে, আমি কাবার নিকট তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম। হঠাৎ দেখলাম যে, তিনজনের একটি দলের মধ্যবর্তী লোকটি এগিয়ে এলো। আমার নিকট হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হলো। তারপর ঐ ব্যক্তি আমার সিনার অগ্রভাগ হতে নাভী পর্যন্ত বিদীর্ণ করল। যমযমের পানি দ্বারা হৃদপিণ্ড ধুয়ে নিল। এরপর হিকমত ও ঈমান দ্বারা তা ভরে দেয়া হলো। পরে আমার নিকট আকারে খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড় এমন একটি জন্তু আনা হলো। আমি জিবরীল (আঃ)-এর সাথে চলতে থাকি। পরে আমরা দুনিয়ার (নিকটবর্তী) আকাশ পর্যন্ত পৌঁছাই। তখন বলা হলো, কে? জিবরীল (আঃ) বললেন, (আমি) জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? জিবরীল (আঃ) বললেন, “মুহাম্মদ (ﷺ) ”। বলা হলো, তাঁকে নিয়ে আসার জন্যে কি দূত পাঠানো হয়েছে? তাঁর আগমনে খোশ আমদেদ, তাঁর আগমন কতই না কল্যাণময়।এরপর আমি আদম (আঃ)-এর নিকট এলাম, তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) পুত্র ও নবী। এর পরে আমরা দ্বিতীয় আসমানে এলাম। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? জিবরীল (আঃ) বললেন, (আমি) জিবরীল। বলা হলো, আপনার সঙ্গে কে? জিবরীল (আঃ) বললেন, “মুহাম্মদ (ﷺ) ”। পূর্ববৎ তাঁকে খোশ আমদেদ জানানো হলো। এরপর আমি ইয়াহিয়া ও ঈসা (আঃ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁদের উভয়কে সালাম দিলাম। তাঁরা বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নবী।তারপর আমরা তৃতীয় আসমানে এলাম। এখানেও প্রশ্ন করা হলো, কে? তিনি বললেন, আমি জিবরীল। বলা হলো, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বললেন, "মুহাম্মদ (ﷺ)"। পূর্ববৎ তাঁকে অভিবাদন জানানো হলো। এখানে আমি ইউসুফ (আঃ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনিও বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নবী।এরপর আমরা চতুর্থ আসমানে এলাম। এখানেও পূর্ববৎ প্রশ্নোত্তর হলো ও সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হলো। আমি ইদ্রিস (আঃ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নবী।এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে এলাম। এখানেও পূর্ববৎ প্রশ্নোত্তর হলো ও সম্বর্ধনা জ্ঞাপন করা হলো। পরে আমি হারুন (আঃ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নবী।এরপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলাম। এখানেও প্রশ্নোত্তর ও সম্বর্ধনার পর আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, স্বাগতম (হে) ভাই ও নবী। আমি যখন তাঁকে অতিক্রম করে যাই তখন তিনি কাঁদতে থাকলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন, হে আমার রব! এ যুবক যাকে আপনি আমার পরে নবীরূপে প্রেরণ করেছেন। আমার উম্মত হতে যত সংখ্যক লোক জান্নাতে যাবে তাঁর উম্মত হতে তার চেয়ে বেশি সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তারা মর্যাদায় হবেন শ্রেষ্ঠতর।তারপর আমরা সপ্তম আসমানে এলাম। এখানেও পূর্বের ন্যায় প্রশ্নোত্তর ও সম্বর্ধনার পর আমি ইবরাহিম (আঃ)-এর সাথে দেখা করলাম। তাঁকে সালাম দিলাম। তিনি বললেন, খোশ আমদেদ, (হে) পুত্র ও নবী।তারপর আমার সামনে বায়তুল মা’মূর উপস্থিত করা হলো। আমি জিবরীল (আঃ)-কে প্রশ্ন করলাম, এটি কোন্ স্থান। তিনি বললেন, এটি বায়তুল মা’মূর। এখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা সালাত আদায় করেন। একদিন যারা এখানে সালাত আদায় করেন, তাঁরা এখানে কোনদিন ফিরবেন না। এ একবারই তাদের জন্যে চূড়ান্ত (সুযোগ)।তারপর আমার সামনে সিদরাতুল মুনতাহা হাজির করা হলো। তার (সিদরাতুল মুনতাহা’র) গাছের ফল আকারে 'হাজর' নামক (স্থানের) কলসীর মতো এবং পাতাগুলো হাতীর কানের মতো এবং দেখলাম যে, তার মূল হতে চারটি নদী প্রবাহমান। দুটি অপ্রকাশ্য ও দুটি প্রকাশ্য। আমি জিবরীল (আঃ)-কে এগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, অপ্রকাশ্য নদী দুটি জান্নাতে প্রবাহমান। আর প্রকাশ্য নদী দুটির একটি ফোরাত ও অন্যটি নীল।তারপর আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হলো। ফেরার পথে আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট আসলাম। তিনি প্রশ্ন করলেন, আপনি কি করে আসলেন? বললাম, আমার ওপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। তিনি বললেন, আমি মানুষের প্রকৃতি সম্পর্কে আপনার চেয়ে বেশি জানি। আমি বনি ইসরাইলকে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করেছি। এ কথা নিশ্চিত যে, আপনার উম্মত এগুলো আদায় করতে পারবে না। আপনি আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং এই নির্দেশ সহজ করে নিয়ে আসুন। আমি আমার রবের নিকট পুনরায় গেলাম এবং এ বিধান সহজ করবার আবেদন করলাম। এতে তিনি তা চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। অতঃপর আমি মূসা (আঃ)-এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি করলেন? আমি বললাম, তা চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিয়েছেন। তিনি এবারও আমাকে পূর্বের ন্যায় বললেন, আমি আমার মহান রবের নিকট ফিরে গেলাম। তিনি এবার ত্রিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আমি আবার মূসা (আঃ)-এর নিকট এলাম এবং তাঁকে জানালাম। তিনি আমাকে পূর্বের মতো বললেন, আমি আবার প্রতিপালকের নিকট হাজির হলাম। তিনি বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। এরপর দশ ওয়াক্ত এবং তারপর পাঁচ ওয়াক্ত করে দিলেন। এরপর আমি মূসা (আঃ)-এর কাছে এলাম। তিনি পূর্বের মতো একই কথা বললেন, আমি বললাম, আমি আবার আল্লাহর কাছে যেতে লজ্জাবোধ করছি। তারপর আল্লাহর পক্ষ হতে ঘোষণা দেয়া হলো, আমি আমার বিধান চূড়ান্ত করে দিয়েছি এবং আমার বান্দাদের জন্যে সহজ করে দিয়েছি। আর আমি একটি নেক কাজের পরিবর্তে দশটি প্রতিদান প্রদান করবো।
