৩/৮. অধ্যায়ঃ
হায়যগ্রস্ত স্ত্রীর সাথে যা করা জায়িয এবং আল্লাহ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীর ব্যাখ্যা- “লোকে তোমাকে রক্তস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলে দাও, তা অশুচি। সুতরাং তোমরা রক্তস্রাবকালে স্ত্রী-সঙ্গম বর্জন করবে।” (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ২২২)
হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীর সঙ্গে আচরণ: সহাবস্থান ও নিষেধের সীমা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩৬৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩৬৯
أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: كَانَتِ الْيَهُودُ إِذَا حَاضَتِ الْمَرْأَةُ مِنْهُمْ لَمْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَلَا يُشَارِبُوهُنَّ وَلَا يُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ، فَسَأَلُوا النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى} [البقرة: 222] الْآيَةَ، «فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُؤَاكِلُوهُنَّ وَيُشَارِبُوهُنَّ وَيُجَامِعُوهُنَّ فِي الْبُيُوتِ، وَأَنْ يَصْنَعُوا بِهِنَّ كُلَّ شَيْءٍ مَا خَلَا الْجِمَاعَ» فَقَالَتِ الْيَهُودُ: مَا يَدَعُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلَّا خَالَفَنَا فَقَامَ أُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ وَعبَّادُ بْنُ بِشْرٍ فَأَخْبَرَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , قَالَا: أَنُجَامِعُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ؟ فَتَمَعَّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَمَعُّرًا شَدِيدًا , حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ قَدْ غَضِبَ، فَقَامَا , فَاسْتَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَدِيَّةَ لَبَنٍ، فَبَعَثَ فِي آثَارِهِمَا فَرَدَّهُمَا فَسَقَاهُمَا، فَعَرَفَ أَنَّهُ لَمْ يَغْضَبْ عَلَيْهِمَا
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইয়াহুদী নারীদের যখন হায়জ (মাসিক ঋতুস্রাব) হত তখন তারা তাদের সাথে একত্রে পানাহার করত না, তাদের সাথে ঘরে একত্রে অবস্থানও করত না। সাহাবীগণ নবী (ﷺ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেনঃ"লোকেরা তোমাকে রক্তস্রাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, তুমি বলে দাও তা অশুচি" - (সূরা বাকারা ২: ২২২)।তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে আদেশ করলেন, তারা যেন তাদের সাথে একত্রে পানাহার করে এবং তাদের সাথে একই ঘরে থাকে, আর যেন তাদের সাথে সহবাস ব্যতীত অন্য সব কিছু করে। অতঃপর ইয়াহুদীরা বলতে লাগল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন ব্যাপারেই আমাদের বিরোধিতা না করে ছাড়বেন না। তখন উসাইদ ইবন হুযাইর এবং আব্বাদ ইবন বিশর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এ সংবাদ দিয়ে বললেন, তাহলে আমরা কি আমাদের স্ত্রীদের সাথে হায়জের সময় সহবাস করবো? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখমণ্ডলের রং বেশ পরিবর্তন হয়ে গেল। এমনকি আমরা ধারণা করলাম, তিনি তাদের প্রতি খুবই রাগান্বিত হয়েছেন। তখন তারা উঠে চলে গেল। ইত্যবসরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে হাদিয়ার দুধ এলো। তিনি উক্ত দু’জনের খোঁজে লোক পাঠালেন। সে উভয়কে ফিরিয়ে আনলে, তিনি তাদেরকে তা পান করালেন। তখন বুঝা গেল যে, তিনি তাদের ওপর রাগ করেননি।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩৬৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি সামাজিক ভুল ধারণার জবাব এসেছে। বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইয়াহুদীদের মধ্যে নারীদের হায়েজ হলে তারা তাদের সঙ্গে একত্রে পানাহার করত না এবং একই ঘরে থাকত না। সাহাবীগণ এ বিষয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করলে আয়াত নাযিলের কথা এসেছে এবং রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নির্দেশ দেন, তারা যেন হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে পানাহার করে, একই ঘরে থাকে এবং সহবাস ছাড়া অন্য সব কিছু করে। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—হায়েজ কোনো নারীকে সামাজিকভাবে দূরে সরিয়ে রাখার কারণ নয়। একই সঙ্গে হায়েজ অবস্থায় সহবাসের নিষেধও পরিষ্কার আছে। বর্ণনার শেষ অংশে সাহাবীদের প্রশ্ন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর মুখমণ্ডলের পরিবর্তন এবং পরে দুধ পান করানোর ঘটনা এসেছে, যা দেখায় প্রশ্নের উত্তরে আদব ও সীমারেখা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ অবস্থায় স্ত্রীকে খাওয়া-দাওয়া ও ঘরে থাকা থেকে আলাদা করার কথা নেই।
- সহবাস ছাড়া অন্য ঘনিষ্ঠতা ও স্বাভাবিক আচরণের অনুমতি এসেছে।
- হায়েজ অবস্থায় সহবাস থেকে বিরত থাকার সীমা স্পষ্ট করা হয়েছে।
- প্রশ্ন করার সময় আদব ও কথার সীমা রক্ষা করা দরকার।
