২৬/১৯. অধ্যায়ঃ
বিবাহের প্রস্তাব
ইদ্দতের বাসস্থান: পর্দা ও নিরাপত্তার প্রতি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর খেয়াল
সুনানে নাসাঈ : ৩২৩৭
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩২৩৭
أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَّامٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي، قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَامِرُ بْنُ شَرَاحِيلَ الشَّعْبِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ فَاطِمَةَ بِنْتَ قَيْسٍ، وَكَانَتْ مِنَ الْمُهَاجِرَاتِ الْأُوَلِ، قَالَتْ: خَطَبَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ، فِي نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَخَطَبَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَوْلَاهُ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، وَقَدْ كُنْتُ حُدِّثْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ أَحَبَّنِي فَلْيُحِبَّ أُسَامَةَ» فَلَمَّا كَلَّمَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قُلْتُ: أَمْرِي بِيَدِكَ، فَانْكِحْنِي مَنْ شِئْتَ، فَقَالَ: «انْطَلِقِي إِلَى أُمِّ شَرِيكٍ» وَأُمُّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ غَنِيَّةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ، عَظِيمَةُ النَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، يَنْزِلُ عَلَيْهَا الضِّيفَانُ، فَقُلْتُ: سَأَفْعَلُ، قَالَ: «لَا تَفْعَلِي، فَإِنَّ أُمَّ شَرِيكٍ كَثِيرَةُ الضِّيفَانِ، فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَسْقُطَ عَنْكِ خِمَارُكِ، أَوْ يَنْكَشِفَ الثَّوْبُ عَنْ سَاقَيْكِ، فَيَرَى الْقَوْمُ مِنْكِ بَعْضَ مَا تَكْرَهِينَ، وَلَكِنِ انْتَقِلِي إِلَى ابْنِ عَمِّكِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ»، وَهُوَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي فِهْرٍ، فَانْتَقَلْتُ إِلَيْهِ «مُخْتَصَرٌ»
ইব্ন শারাহীল শা’বী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমির ইবন শারাহীল আস-শা’বী (রহঃ) বলেন, তিনি ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, যিনি প্রথম পর্যায়ে হিজরতকারিণী মহিলাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কতক সাহাবীর মধ্যে আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। আর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর আযাদকৃত গোলাম উসামা ইবন যায়দ-এর জন্যও আমার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আর পূর্বেই আমার নিকট পৌঁছেছিল যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে আমাকে ভালবাসে সে যেন উসামাকেও ভালবাসে। রসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আমার সাথে কথা বললেন, তখন আমি বললাম: আমার বিষয়টি আপনার ইচ্ছাধীন। আপনি যার সাথে ইচ্ছা আমার বিবাহ দিতে পারেন। তিনি (ﷺ) বললেন: উম্মু শরীক-এর নিকট চলে যাও। উম্মু শরীক আনসারী মহিলাদের মধ্যে সম্পদশালিনী, আল্লাহর রাস্তায় অধিক দানকারিণী। তার নিকট অনেক মেহমান আসা-যাওয়া করে।আমি [ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)] বললাম: আচ্ছা আমি তাই করব। পরে তিনি (ﷺ) বললেন : না, তার নিকট যেও না, কারণ উম্মু শরীক-এর নিকট অনেক মেহমান এসে থাকে। হয়তো তোমার ওড়না পড়ে যাবে অথবা তোমার পায়ের গোছা উন্মুক্ত হয়ে যাবে, আর লোকেরা তোমার এমন অঙ্গ দেখে ফেলবে যা তুমি পছন্দ কর না। তাই তুমি তোমার চাচাত ভাই আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবন উম্মু মাক্তুম-এর নিকট যাও। সে বনি ফিহর-এর একজন লোক। এরপর আমি তার নিকট গেলাম। [সংক্ষিপ্ত]
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৩২৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা বিনত কায়স (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তাঁকে কয়েকজন সাহাবী বিবাহের প্রস্তাব দেন, আর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উসামা ইবন যায়দের জন্যও তাঁর প্রস্তাব দেন। যখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর সাথে কথা বলেন, তিনি নিজের বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইচ্ছাধীন করে দেন। প্রথমে তাঁকে উম্মু শরীকের কাছে যেতে বলা হয়। কিন্তু পরে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, উম্মু শরীকের কাছে অনেক মেহমান আসে; হয়তো তাঁর ওড়না পড়ে যেতে পারে বা পায়ের গোছা খুলে যেতে পারে, যা তিনি পছন্দ করবেন না। তাই তাঁকে ইবন উম্মু মাকতুমের কাছে যেতে বলা হয়। এই হাদিসে নারীর সম্মান, পর্দা, নিরাপত্তা ও থাকার পরিবেশের প্রতি সূক্ষ্ম খেয়াল দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীর থাকার জায়গা নির্বাচনে পর্দা ও নিরাপত্তা দেখা দরকার।
- অনেক মেহমানের পরিবেশে অস্বস্তির কারণ হতে পারে—এ দিকটি বিবেচনা করা হয়েছে।
- ফাতিমা (রাঃ) নিজের বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পরামর্শ গ্রহণ করেন।
- বিবাহ প্রস্তাব ও ইদ্দতের বিষয়ে সম্মানজনক আচরণ জরুরি।
