২৬/১২. অধ্যায়ঃ
যিনারিণীকে বিবাহ করা
যিনা হারাম ও পবিত্র বিবাহ: মারসাদ ও আনাকের ঘটনা
সুনানে নাসাঈ : ৩২২৮
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩২২৮
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُحَمَّدٍ التَّيْمِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَخْنَسِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ مَرْثَدَ بْنَ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيَّ، وَكَانَ رَجُلًا شَدِيدًا، وَكَانَ يَحْمِلُ الْأُسَارَى مِنْ مَكَّةَ، إِلَى الْمَدِينَةِ، قَالَ: فَدَعَوْتُ رَجُلًا لِأَحْمِلَهُ، وَكَانَ بِمَكَّةَ بَغِيٌّ يُقَالُ لَهَا: عَنَاقُ، وَكَانَتْ صَدِيقَتَهُ، خَرَجَتْ فَرَأَتْ سَوَادِي فِي ظِلِّ الْحَائِطِ، فَقَالَتْ: مَنْ هَذَا مَرْثَدٌ، مَرْحَبًا وَأَهْلًا يَا مَرْثَدُ، انْطَلِقِ اللَّيْلَةَ فَبِتْ عِنْدَنَا فِي الرَّحْلِ، قُلْتُ: يَا عَنَاقُ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَرَّمَ الزِّنَا، قَالَتْ: يَا أَهْلَ الْخِيَامِ، هَذَا الدُّلْدُلُ، هَذَا الَّذِي يَحْمِلُ أُسَرَاءَكُمْ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ، فَسَلَكْتُ الْخَنْدَمَةَ، فَطَلَبَنِي ثَمَانِيَةٌ، فَجَاءُوا حَتَّى قَامُوا عَلَى رَأْسِي، فَبَالُوا، فَطَارَ بَوْلُهُمْ عَلَيَّ، وَأَعْمَاهُمُ اللَّهُ عَنِّي، فَجِئْتُ إِلَى صَاحِبِي، فَحَمَلْتُهُ، فَلَمَّا انْتَهَيْتُ بِهِ إِلَى الْأَرَاكِ، فَكَكْتُ عَنْهُ كَبْلَهُ، فَجِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَنْكِحُ عَنَاقَ، فَسَكَتَ عَنِّي، فَنَزَلَتْ: {الزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ} [النور: 3]، فَدَعَانِي، فَقَرَأَهَا عَلَيَّ وَقَالَ: «لَا تَنْكِحْهَا»---[حكم الألباني] حسن الإسناد
ইবরাহীম ইব্ন মুহাম্মাদ তায়মী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমর ইবনু শু‘আয়ব (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। মারসাদ ইবনু আবূ মারসাদ আল গানাবী (রহঃ) নামক লোকটি খুব শক্তিশালী ছিল। সে মাক্কা হতে মাদিনায় বন্দীদের বয়ে আনতো। আমি এক ব্যক্তিকে বহন করার জন্য তাকে ডাকলাম। মাক্কায় ‘আনাক’ নামে এক পতিতা ছিল। সে [পতিতা] ছিল তাঁর [মারসাদের] বান্ধবী। সে বের হয়ে দেয়ালে আমার ছায়া দেখে বললেন: এ ব্যক্তি কে? মারসাদ নাকি? তোমাকে স্বাগতম। হে মারসাদ! চল আজ রাত আমাদের নিকট [তাঁবুতে] অতিবাহিত কর। আমি বললাম: হে আনাক! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যিনা হারাম করেছেন। সে বলে উঠল: হে তাঁবুবাসীগণ! এ সজারু যে তোমাদের বন্দীদেরকে বহন করে মাক্কা হতে মাদিনায় নিয়ে যায়।এরপর আমি [আত্মরক্ষার জন্য] খানদামা পাহাড়ে আশ্রয় নিলাম। আমাকে আটজন লোক খুঁজতে এসে আমার মাথার উপর দাঁড়িয়ে পেশাব করে দিল। তাদের পেশাব আমার গায়ে পড়ল। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে আমাকে দেখা হতে মাহরুম করে দিলেন। আমি আমার সাথীর নিকট এসে তাকে বহন করে যখন আরাক নামক স্থানে পৌঁছে তার শক্ত বেড়ী খুলে দিলাম।এরপর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে বললাম : আমি কি ‘আনাক’-কে বিবাহ করবো? তিনি (ﷺ) নিশ্চুপ থাকলেন। তখন নাজিল হলো :الزَّانِيَةُ لَا يَنْكِحُهَا إِلَّا زَانٍ أَوْ مُشْرِكٌ“যিনাকারিণী, তাকে যিনাকারী অথবা মুশরিক ব্যতীত কেউ বিবাহ করে না”- (সূরা আন নূর ২৪ : ৩)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ডেকে আয়াত শুনিয়ে বললেন: তুমি তাকে বিবাহ করো না।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৩২২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মারসাদ ইবনু আবূ মারসাদের একটি ঘটনা আছে। তিনি মক্কা থেকে বন্দীদের মদীনায় নিয়ে আসতেন। মক্কায় আনাক নামে এক পতিতা ছিল, যে আগে তাঁর পরিচিত ছিল। আনাক তাঁকে রাতে থাকতে ডাকলে মারসাদ স্পষ্ট বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যিনা হারাম করেছেন। পরে তিনি বিপদের মুখে পড়েন, কিন্তু আল্লাহ তাঁকে শত্রুদের চোখ থেকে আড়াল রাখেন। কাজ শেষ করে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করেন, আনাককে কি বিবাহ করবেন? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে নীরব থাকেন। পরে সূরা আন-নূরের আয়াত নাযিল হলে তিনি মারসাদকে ডেকে আয়াত পাঠ করেন এবং বলেন, তাকে বিবাহ করো না। এই হাদিসে পবিত্রতা, যিনা থেকে দূরে থাকা এবং বিবাহে চরিত্রের গুরুত্ব স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিনা হারাম—মারসাদ (রহঃ) বিপদের মধ্যেও এ কথা স্পষ্ট বলেছেন।
- বিবাহের ক্ষেত্রে চরিত্র ও পবিত্রতার বিষয় গুরুত্ব পায়।
- কোনো সিদ্ধান্তে আল্লাহর নির্দেশ আসলে তা মেনে নেওয়া উচিত।
- পুরোনো সম্পর্ক থাকলেও হারাম কাজ থেকে দূরে থাকা দরকার।
