২৬/১০. অধ্যায়ঃ
বিয়ে করার ক্ষেত্রে মেয়েদের বিবেচ্য বিষয়
ধার্মিক স্ত্রী নির্বাচন: বিবাহে সঠিক অগ্রাধিকার
সুনানে নাসাঈ : ৩২২৬
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩২২৬
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ مَسْعُودٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ تَزَوَّجَ امْرَأَةً عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَقِيَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «أَتَزَوَّجْتَ يَا جَابِرُ؟» قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «بِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا» قَالَ: قُلْتُ: بَلْ ثَيِّبًا، قَالَ: «فَهَلَّا بِكْرًا تُلَاعِبُكَ»، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كُنَّ لِي أَخَوَاتٌ فَخَشِيتُ أَنْ تَدْخُلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُنَّ، قَالَ: «فَذَاكَ إِذًا، إِنَّ الْمَرْأَةَ تُنْكَحُ عَلَى دِينِهَا، وَمَالِهَا، وَجَمَالِهَا، فَعَلَيْكَ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ»
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময় এক নারীকে বিবাহ করলেন। তাঁর সাথে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দেখা হলে তিনি (ﷺ) বললেন: হে জাবির! তুমি কি বিবাহ করেছ? আমি বললাম: জি, হ্যাঁ। তিনি (ﷺ) বললেন: কুমারী, না বিধবা? আমি বললাম: বরং বিধবা। তিনি (ﷺ) বললেন: কেন একজন কুমারীকে বিবাহ করলে না, যার সাথে তুমি আনন্দ-ফুর্তি করতে?জাবির (রাঃ) বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! আমার কয়েকজন বোন রয়েছে। আমি ভয় করলাম যে, আমি যদি তাদের মতো একজন নিয়ে আসি তবে সমস্যার সৃষ্টি হবে। তিনি (ﷺ) বললেন: তুমি যা করেছ ভালই করেছ। নারীদেরকে তাদের ধর্ম, সম্পদ এবং সৌন্দর্যের কারণে বিবাহ করা হয়ে থাকে। অতএব তোমার উচিত ধার্মিক মেয়ে বিবাহ করা। আল্লাহ তোমার ভাল করুন।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৩২২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ)-এর বিবাহের ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কুমারী না বিধবা নারীকে বিবাহ করেছেন। জাবির (রাঃ) জানান, তিনি বিধবা নারীকে বিয়ে করেছেন। কারণ তাঁর কয়েকজন বোন ছিল এবং তিনি আশঙ্কা করেছিলেন, একই বয়সী বা তাদের মতো কাউকে আনলে পরিবারের মধ্যে সমস্যা হতে পারে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর এই বিবেচনাকে ভালো বলেন। এরপর তিনি জানান, নারীদেরকে ধর্ম, সম্পদ ও সৌন্দর্যের কারণে বিবাহ করা হয়; তাই ধার্মিক নারীকে বেছে নেওয়া উচিত। এখানে বিবাহে শুধু আনন্দ বা বাহ্যিক পছন্দ নয়, পরিবারের অবস্থা ও দ্বীনের দিকও দেখা হয়েছে। হাদিসটি শেখায়, বিয়ের সিদ্ধান্তে দায়িত্ববোধ, পরিবার ও ধার্মিকতা—সবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিবাহের সিদ্ধান্তে পরিবারের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা যায়।
- ধর্ম, সম্পদ ও সৌন্দর্যের মধ্যে ধার্মিকতাকে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
- পরিবারে শান্তি বজায় রাখার চিন্তা প্রশংসনীয় হতে পারে।
- বিবাহ শুধু পছন্দ নয়; এটি দায়িত্বের বিষয়ও।
