২৬/৮. অধ্যায়ঃ
আযাদকৃত গোলামের সঙ্গে গ্রাম্য (স্বাধীন) নারীর বিবাহ
পালকপুত্রের পিতৃ পরিচয়: ইসলামের ন্যায়ভিত্তিক নির্দেশনা
সুনানে নাসাঈ : ৩২২৩
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩২২৩
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ بَكَّارِ بْنِ رَاشِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا شُعَيْبٌ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ: أَنَّ أَبَا حُذَيْفَةَ بْنَ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ، وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، تَبَنَّى سَالِمًا وَأَنْكَحَهُ ابْنَةَ أَخِيهِ هِنْدَ بِنْتَ الْوَلِيدِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ، وَهُوَ مَوْلًى لِامْرَأَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ، كَمَا «تَبَنَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدًا»، وَكَانَ مَنْ تَبَنَّى رَجُلًا فِي الْجَاهِلِيَّةِ، دَعَاهُ النَّاسُ ابْنَهُ، فَوَرِثَ مِنْ مِيرَاثِهِ، حَتَّى أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فِي ذَلِكَ {ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ} [الأحزاب: 5] فَمَنْ لَمْ يُعْلَمْ لَهُ أَبٌ كَانَ مَوْلًى وَأَخًا فِي الدِّينِ «مُخْتَصَرٌ»
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু হুযাইফা ইবনু উতবা ইবনু রবীআ ইবনু আবদ শামস ঐ লোকেদের একজন ছিলেন যারা রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি সালিম নামে এক ব্যক্তিকে পালক পুত্র বানিয়ে নিয়েছিলেন। তার সাথে তার ভাতিজি হিন্দ বিনতু ওয়ালিদ ইবনু উতবা ইবনু রবীআ ইবনু আবদ শামস-এর বিবাহ দেন। সে ছিল এক আনসারী মহিলার ক্রীতদাস। যেমন রসূলুল্লাহ (ﷺ) যায়দ-কে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।জাহিলী যুগে নিয়ম ছিল, যদি কেউ কাউকেও পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করে তাহলে লোকে তাকে তার ছেলে বলেই ডাকা হতো এবং এ ছেলে ঐ লোকের ওয়ারিস বলে গণ্য হতো। এ ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ﴿ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِندَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ تَعْلَمُوا آبَاءَهُمْ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ وَمَوَالِيكُمْ﴾“তোমরা তাদের ডাক তাদের পিতৃ-পরিচয়ে, এটাই আল্লাহর দৃষ্টিতে অধিক ন্যায়সঙ্গত, যদি তোমরা তাদের পিতৃ-পরিচয় না জান, তবে তারা তোমাদের দীনী ভাই এবং বন্ধু” (সূরা আল আহযাব ৩৩ : ৫)।এরপর যার পিতৃ-পরিচয় না থাকতো, সে বন্ধু বা দীনী ভাই হিসেবেই পরিগণিত হতো। [সংক্ষিপ্ত]
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৩২২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুযাইফা (রাঃ) ও সালিমের ঘটনা এসেছে। জাহিলী যুগে কেউ কাউকে পোষ্যপুত্র বানালে মানুষ তাকে সেই ব্যক্তির ছেলে বলত এবং সে উত্তরাধিকারীও গণ্য হতো। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা নির্দেশ দিলেন, তাদের জন্মদাতা পিতার নামে ডাকতে হবে। যদি পিতার পরিচয় জানা না থাকে, তবে তারা দ্বীনি ভাই ও বন্ধু হিসেবে গণ্য হবে। এখানে মূল বিষয় হলো পিতৃ পরিচয় ঠিক রাখা। ইসলাম মানুষের সম্মান রক্ষা করে, কিন্তু বংশ পরিচয় বদলে দেয় না। পালক সম্পর্ক থাকলেও আসল পিতার পরিচয় আড়াল করা যাবে না—এই শিক্ষা হাদিসে স্পষ্ট। একই সঙ্গে যাদের পিতৃ পরিচয় জানা নেই, তাদের হেয় করা নয়; বরং দ্বীনি ভাই হিসেবে দেখা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পালকপুত্রকে জন্মদাতা পিতার পরিচয়ে ডাকতে হবে।
- সম্পর্কে ভালোবাসা থাকলেও বংশ পরিচয় বদলানো ঠিক নয়।
- পিতার পরিচয় জানা না থাকলে তাকে দ্বীনি ভাই ও বন্ধু হিসেবে দেখা হবে।
- ইসলাম পরিচয়, ন্যায় ও সম্মান—তিনটি বিষয়কেই গুরুত্ব দেয়।
