২৬/৪. অধ্যায়ঃ
চির-কুমার থাকার নিষিদ্ধতা
তাবাত্তুল নয়, নবীদের পথ: স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩২১৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩২১৬
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخَلَنْجِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو سَعِيدٍ، مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا حُصَيْنُ بْنُ نَافِعٍ الْمَازِنِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي الْحَسَنُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ، قَالَ: قُلْتُ: إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَسْأَلَكِ عَنِ التَّبَتُّلِ، فَمَا تَرَيْنَ فِيهِ؟ قَالَتْ: " فَلَا تَفْعَلْ، أَمَا سَمِعْتَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ: {وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً} [الرعد: 38] فَلَا تَتَبَتَّلْ "---[حكم الألباني] صحيح إن كان الحسن سمعه من سعد موقوف
সা’দ ইব্ন হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি উম্মুল মুমিনিন আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হলেন। আমি বললাম: আমি আপনার কাছে এসেছি খাসি হওয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করতে। এ বিষয়ে আপনি কি বলেন। তিনি বললেন: তুমি এমনটা করো না। মহান ও মহীয়ান আল্লাহ বলেছেন: "আর আমি আপনার পূর্বেও অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছিলাম"- (সূরা আর রা’দ ১৩: ৩৮)। অতএব তুমি বিয়ে না করে সংসারত্যাগী জীবন-যাপন করো না।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩২১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো তাবাত্তুল থেকে বিরত থাকা। সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) উম্মুল মুমিনিন আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে খাসি হওয়া বা সংসারত্যাগী জীবন সম্পর্কে জানতে চান। আয়িশা (রাঃ) বলেন, এমনটা করো না। এরপর তিনি কুরআনের আয়াত স্মরণ করান: আল্লাহ পূর্বেও রাসূল পাঠিয়েছেন এবং তাঁদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছেন। তারপর তিনি বলেন, তুমি বিবাহ না করে সংসারত্যাগী জীবন যাপন করো না। এই বর্ণনায় আয়িশা (রাঃ) সরাসরি কুরআনের আলোকে উত্তর দিয়েছেন। এতে বোঝা যায়, নবীদের পথ মানবিক স্বভাবের বিরুদ্ধে নয়। বিবাহ, পরিবার ও সন্তান-সন্ততি নবীদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাই দ্বীন পালনের নামে নিজের স্বাভাবিক জীবনকে পুরোপুরি কেটে ফেলা সঠিক পথ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আয়িশা (রাঃ) তাবাত্তুল করতে সরাসরি নিষেধ করেছেন।
- কুরআনের আয়াত দিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সুন্দর উদাহরণ আছে।
- নবীদের জীবনে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির কথা এসেছে।
- দ্বীন পালনে স্বাভাবিক জীবনের বৈধ পথকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।
