২৬/২. অধ্যায়ঃ
মহান ও মহীয়ান আল্লাহ তাঁর রসূলের ওপর যা ফার্য করেছেন এবং অন্যদের জন্য যা হারাম করেছেন- আল্লাহর ইচ্ছায় তাঁর নৈকট্য বৃদ্ধির উদ্দেশে
রাসূলকে বেছে নেওয়া: ইখতিয়ার তালাক নয়—হাদিসের শিক্ষা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩২০৩
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩২০৩
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ إِسْمَعِيلَ، عَنْ الشَّعْبِيِّ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: «خَيَّرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاخْتَرْنَاهُ، فَلَمْ يَكُنْ طَلَاقًا»
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ‘ইখতিয়ার’ দিলে আমরা তাঁকেই গ্রহণ করলাম। তা তালাক হিসেবে গণ্য হয়নি।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩২০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) খুব সংক্ষেপে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাম্পত্য বিষয় বলেছেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর স্ত্রীদের ইখতিয়ার দিলেন, অর্থাৎ থাকার বা না থাকার সুযোগ দিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কেই বেছে নিলেন। তাই এ ঘটনা তালাক হিসেবে গণ্য হয়নি। মূল শিক্ষা হলো, শুধু পছন্দের সুযোগ দেওয়া মানেই বিচ্ছেদ নয়। সিদ্ধান্ত কী হলো, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই বর্ণনা আগের হাদিসগুলোর অর্থকে আরও পরিষ্কার করে। এখানে দুনিয়ার আরাম বা বাহ্যিক লাভের আলোচনা নয়; বরং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে থাকা এবং আখিরাতমুখী সিদ্ধান্তের কথা এসেছে। সহজ ভাষায়, হাদিসটি আমাদের শেখায়—ধর্মীয় বিষয়ে শব্দের বাহ্যিক দিক দেখে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত না নিয়ে, বর্ণিত ফলাফলের দিকে তাকাতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইখতিয়ারের পর স্ত্রী যদি স্বামীকে বেছে নেয়, তা তালাক নয়।
- ধর্মীয় বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম বুঝাতে পারে।
- দাম্পত্য সিদ্ধান্তে পরিষ্কার পছন্দ ও স্পষ্ট উত্তর জরুরি।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে বেছে নেওয়া তাঁর স্ত্রীদের দৃঢ় ঈমানের পরিচয় দেয়।
