২৫/৪৮. অধ্যায়ঃ
যে ব্যক্তি মুজাহিদের পরিবারের খিয়ানাত করে
মুজাহিদের পরিবারের দায়িত্বে খিয়ানত করলে কী পরিণাম
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩১৯০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩১৯০
أَخْبَرَنِي هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: حَدَّثَنَا حَرَمِيُّ بْنُ عُمَارَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " حُرْمَةُ نِسَاءِ الْمُجَاهِدِينَ عَلَى الْقَاعِدِينَ كَحُرْمَةِ أُمَّهَاتِهِمْ، وَإِذَا خَلَفَهُ فِي أَهْلِهِ فَخَانَهُ، قِيلَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: هَذَا خَانَكَ فِي أَهْلِكَ فَخُذْ مِنْ حَسَنَاتِهِ مَا شِئْتَ، فَمَا ظَنُّكُمْ "
সুলায়মান ইব্ন বুরায়দা (রহঃ) তাঁর পিতার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যারা যুদ্ধে গমন করে না তাদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীরা যেমন হারাম, তেমনি তাদের মায়েরা তাদের জন্য হারাম। আর সে যদি তার পরিবারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে খিয়ানত করে, কেয়ামতের দিন তাকে বলা হবে: এ ব্যক্তি তোমার পরিবারে তোমার খিয়ানত করেছে। অতএব তুমি তার নেকী হতে যা ইচ্ছা নাও। অতএব এ বিষয়ে তোমাদের ধারণা কি?
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩১৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাতেও একই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসেছে—মুজাহিদের পরিবার একটি আমানত। যারা যুদ্ধে যায় না, তাদের জন্য মুজাহিদদের স্ত্রীদের মর্যাদা এমন, যেমন তাদের নিজেদের মায়েদের মর্যাদা। যদি কেউ মুজাহিদের অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের স্থলাভিষিক্ত হয়, অর্থাৎ দেখাশোনা বা দায়িত্বে থাকে, কিন্তু সে খিয়ানত করে, তবে কেয়ামতের দিন তাকে বলা হবে: এ ব্যক্তি তোমার পরিবারে খিয়ানত করেছে; তুমি তার নেকি থেকে যা ইচ্ছা নাও। নবী صلى الله عليه وسلم শেষে সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন, এ বিষয়ে তোমাদের ধারণা কী? এই প্রশ্ন বুঝিয়ে দেয়, খিয়ানতের ক্ষতি কত বড় হতে পারে। হাদিসটি শুধু যুদ্ধকালীন পরিবারের কথা নয়; আমানত, বিশ্বস্ততা এবং অন্যের ঘর-সম্মান রক্ষার ব্যাপারে গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও পরিবারের দায়িত্ব নেওয়া বড় আমানত।
- খিয়ানত করলে আখিরাতে নিজের নেকি হারানোর ভয় আছে।
- মুজাহিদের স্ত্রীর মর্যাদা মায়ের মর্যাদার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- অন্যের অনুপস্থিতিতে তার অধিকার আরও বেশি রক্ষা করা দরকার।
