২৫/৩২. অধ্যায়ঃ
ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করা
আল্লাহর পথে শহীদ হওয়া, পাপ ক্ষমা ও ঋণের সতর্কতা
সুনানে নাসাঈ : ৩১৫৬
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩১৫৬
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ، وَالْحَارِثُ بْنُ مِسْكِينٍ، قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ، عَنْ ابْنِ الْقَاسِمِ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ، أَيُكَفِّرُ اللَّهُ عَنِّي خَطَايَايَ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ»، فَلَمَّا وَلَّى الرَّجُلُ، نَادَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أَوْأَمَرَ بِهِ فَنُودِيَ لَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ قُلْتَ؟» فَأَعَادَ عَلَيْهِ قَوْلَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ، إِلَّا الدَّيْنَ، كَذَلِكَ قَالَ لِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ»
আবদুল্লাহ্ ইব্ন আবূ কাতাদা তাঁর পিতা থেকে হতে বর্ণিতঃ
আবদুল্লাহ ইবন আবু কুতাদাহ তার পিতা হতে বর্ণনা করেন। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার মন্তব্য কি, যদি আমি সাওয়াবের আশায় ধৈর্যের সাথে সামনে অগ্রসর হয়ে এবং পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হই, তবে কি আল্লাহ আমার সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দিবেন? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ।যখন সে ব্যক্তি চলে গেল, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে ডাকলেন অথবা ডাকতে বললেন। তাকে ডাকা হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তুমি কি বললে? লোকটি তার বক্তব্য পুনরায় বর্ণনা করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ, তবে ঋণ ছাড়া, জিবরীল (আঃ) আমাকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৩১৫৬-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ঋণ। এই হাদিসে এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করল, সে যদি সওয়াবের আশায় ধৈর্যের সঙ্গে সামনে অগ্রসর হয়ে, পিছু না হটে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়, তাহলে আল্লাহ কি তার সব পাপ ক্ষমা করবেন? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, হ্যাঁ। কিন্তু লোকটি চলে গেলে তাঁকে ডেকে আনা হলো। নবী (صلى الله عليه وسلم) আবার প্রশ্নটি শুনলেন এবং বললেন, হ্যাঁ, তবে ঋণ ছাড়া; জিবরীল (আঃ) তাঁকে এভাবেই বলেছেন। এই হাদিসে শহীদের মর্যাদা যেমন বোঝা যায়, তেমনি ঋণ ও মানুষের হকের গুরুত্বও বোঝা যায়। আল্লাহর পথে বড় আমল করলেও মানুষের অধিকার অবহেলা করা যাবে না। তাই এটি শুধু ফজিলতের হাদিস নয়, দায়িত্বের হাদিসও। ফলে মুমিনের জন্য আমল ও লেনদেন—দুটিই গুরুত্ব রাখে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শহীদের পাপ ক্ষমার কথা এসেছে, কিন্তু ঋণকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে।
- সওয়াবের আশা, ধৈর্য এবং সামনে অগ্রসর হওয়া প্রশ্নে উল্লেখিত শর্ত।
- মানুষের হক আদায়ের দায়িত্ব বড় আমলের মধ্যেও ভুলে যাওয়া যাবে না।
