২৫/৭. অধ্যায়ঃ
আল্লাহর পথে জান-মাল দিয়ে জিহাদকারীর মর্যাদা
উত্তম মানুষ কে: জান-মাল, তাকওয়া ও মানুষকে নিরাপদ রাখা
সুনানে নাসাঈ : ৩১০৫
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩১০৫
أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ؟ قَالَ: «مَنْ جَاهَدَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»، قَالَ: ثُمَّ مَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «ثُمَّ مُؤْمِنٌ فِي شِعْبٍ مِنَ الشِّعَابِ يَتَّقِي اللَّهَ، وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّهِ»
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি উত্তম? তিনি (ﷺ) বললেন: যে নিজের জান ও মাল দিয়ে লড়াই করে। ঐ লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এরপর কে? তিনি (ﷺ) বলেন: ঐ মুমিন ব্যক্তি যে পর্বতের উপত্যকাসমূহের কোনো একটিতে বসবাস করে ও আল্লাহকে ভয় করে এবং নিজের ক্ষতি থেকে লোকেদের রক্ষা করে।
সুনানে নাসাঈ হাদিস ৩১০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক লোক রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করল, কোন ব্যক্তি উত্তম। তিনি উত্তর দিলেন, যে নিজের জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে লড়াই করে। এরপর আবার জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, সেই মুমিন, যে কোনো পাহাড়ি উপত্যকায় থাকে, আল্লাহকে ভয় করে এবং নিজের ক্ষতি থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখে। এখানে দুটি দিক এসেছে: আল্লাহর পথে জান-মাল দিয়ে চেষ্টা করা এবং মানুষকে নিজের অনিষ্ট থেকে বাঁচিয়ে রাখা। হাদিসটি শুধু বাইরে কাজ করার কথা বলে না; নিজের চরিত্র নিয়ন্ত্রণের কথাও বলে। যে ব্যক্তি মানুষের ক্ষতি করে না, আল্লাহকে ভয় করে এবং নিজের জীবনকে নিরাপদ পথে রাখে—তার মর্যাদাও এখানে উল্লেখ হয়েছে। তাই উত্তম মানুষ হওয়া শুধু বড় কাজের নাম নয়; নিজের ক্ষতি থেকে অন্যকে রক্ষা করাও বড় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর পথে জান ও মাল দিয়ে চেষ্টা করা বড় মর্যাদার কাজ।
- মানুষকে নিজের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
- তাকওয়া শুধু মুখের দাবি নয়; আচরণেও তার প্রভাব থাকা দরকার।
